ওঙ্কার ডেস্ক: বুধবার দুপুরে তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের পর টানা তিন দিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযান আপাতত শেষ হয়েছে। সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং কলকাতা পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের কাজ চালানো হয়। দীর্ঘ ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই অভিযানে ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য জীবিত ও মৃতদের খোঁজ চালায়। উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হওয়ার পর একে একে ঘটনাস্থল ছাড়তে শুরু করেছে উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা।
যদিও উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে, তবুও ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে কলকাতা পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে কোনও প্রমাণ যাতে নষ্ট না হয়, সে কারণে সাধারণ মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের চারপাশে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাজের সুবিধার্থে এলাকা সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।
এবার দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে নামছে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দল। ঘটনাস্থল থেকে নির্মাণসামগ্রীর নমুনা, লোহার কাঠামো, কংক্রিট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পাশাপাশি মাটির গুণগত মানও পরীক্ষা করা হবে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষ হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপ সম্পূর্ণ সরানোর কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার তদন্তে রাজ্য সরকার ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনার কারণ, নির্মাণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশের অনুরোধে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ প্রযুক্তি বিভাগের বিশেষজ্ঞদের একটি দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধ্বংসস্তূপের বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তাঁদের পর্যবেক্ষণে ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে এখনও দুর্গন্ধ বের হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে আরও কিছু দেহাবশেষ বা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সেখানে থেকে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই কারণে প্রতিটি নমুনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিকের মৃত্যু এবং একাধিক মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় এখনও শোকস্তব্ধ রাজ্য। উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, বৈজ্ঞানিক তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা, দায় নির্ধারণ করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন নির্মাণ বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।