ওঙ্কার ডেস্ক: বিল আটকে রাখা সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে মঙ্গলবার। তার আগে সর্বোচ্চ আদালতে নিজেদের অবস্থান জানাল কেন্দ্র। কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, রাষ্ট্রপতির কাছে এসে আটকে থাকা বিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, গোটা বিষয়টি নিয়ে কখন এবং কী ভাবে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নেওয়া হবে, তা ঠিক করবেন রাষ্ট্রপতিই।
কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল সর্বোচ্চ আদালতকে জানিয়েছেন, ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৩ আটকে থাকা বিল সাংবিধানিক কি না, সেই বিষয়ে পরামর্শ চাওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পরামর্শ চাওয়ার বিষয়ে বাধ্য নন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট তামিলনাড়ু সরকারের একটি মামলায় রাষ্ট্রপতিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল।
নিয়ম অনুসারে কোনও রাজ্যের আইনসভায় বিল পাশ হলে তা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হয় সম্মতির জন্য। রাজ্যপাল সেই বিল নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে তা পাঠিয়ে দেন রাষ্ট্রপতির কাছে। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, রাষ্ট্রপতি অনির্দিষ্টকালের জন্য সেই বিল ফেলে রাখতে পারবেন না। সংবিধান এই বিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে কোনও সময় বেঁধে দেয়নি, তবে সুপ্রিম কোর্ট জানায় তিন মাসের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। যদি কোনও কারণে দেরি হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারণ জানাতে হবে। শীর্ষ আদালত জানায়, রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির কাছে কোনও বিল পাঠালে সেটি সাংবিধানিক কি না সেই বিষয়ে তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। কিন্তু কেন্দ্রের যুক্তি এ ক্ষেত্রে ভিন্ন। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০০ এবং ২০১ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কোনও বিলে সম্মতি দেবেন কি না, তা তিনি নিজেই ঠিক করবেন। এ ছাড়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৩ অনুসারে এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের কোনও ভূমিকা নেই বলে যুক্তি দেয় কেন্দ্র।
