নিজস্ব প্রতিনিধি : গুন্ডা দমন বিল ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্ম, এমন খবরে শুক্রবার দিনভর সরব ছিল রাজ্য। অবশেষে বিভ্রান্তি দূর করতে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, প্রস্তাবিত আইনটি এখনও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবেচনার অধীনে রয়েছে। সমস্ত জল্পনা খারিজ করে তিনি দাবি করেন, গুন্ডা দমন বিল নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। বিলটি ফেরত আসা দূরের কথা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দরবারেই এখনও পর্যন্ত পৌঁছায়নি সেটি। কেন্দ্রীয় মাদক-বিরোধী আইনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের এই সংক্রান্ত আইনের প্রস্তাবটির বিরোধ দেখা দিতে পারে—এমন একটি ধারার বিষয়ে উদ্বেগের কারণে রাষ্ট্রপতি বিলটি বাংলার সরকারের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরই মুখ্যমন্ত্রী এই স্পষ্টীকরণ দিলেন।
জুন মাসে রাজ্যে বিধানসভায় পাস হওয়া এই আইনটি হল সংগঠিত অপরাধ, তোলাবাজি, বেআইনি খনন, সাইবার অপরাধ এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার মতো ঘটনা্র মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। অথচ বিলটি ফেরত পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, এমন একটা খবরে শুক্রবার সারাদিন সরগরম থাকলো রাজ্য রাজনীতি। সন্ধ্যার পর অবশেষে এই ইস্যুতে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাবতীয় জবাব দিতে এদিন রাত পৌনে ন’টা নাগাদ বিরোধীদের জবাব দিতে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য পুলিশের ডিজি ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে পাশে নিয়ে এদিন তিনি সমস্ত জল্পনা স্পষ্ট ভাবে খারিজ দেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আইনটি ফেরত পাঠানোর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং বিলটি এখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক খতিয়ে দেখছে।
মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে গল্পের গরুকে গাছে না তোলার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, “বিলে কোথাও গুন্ডা শব্দটা লেখা নেই। যারা গুন্ডা তারাই এই প্রচার করছে। সাংবাদিক বৈঠক করছে। তিনি মনে করিয়ে দিতে চান, সংবিধানের দেওয়া ক্ষমতা বলেই তাঁরা এই বিল এনেছেন। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আইন বিভাগ সহ অন্যান্য বিভাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে বিলটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছে। তাঁর কথায়, ‘‘এটা সম্পূর্ণ ফেক, বেসলেস এবং আর্টিফিশিয়ালি তৈরি করা সংবাদ। যারা আনন্দ প্রকাশ করছেন, তাঁরা আসলে এই আইনের ভয়ে রয়েছেন।’’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিলের দুটি অংশ রয়েছে। তার মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের সংক্রান্ত অংশ ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। সেই আইনের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় পদক্ষেপও করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের অপর একটি অংশে নির্দিষ্ট অপরাধকে অজামিনযোগ্য করার প্রস্তাব থাকায় সংবিধানের ২৫৪(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মাধ্যমে বিলটি পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।