নিজস্ব প্রতিনিধি, ক্যানিং: জমি-বাড়ির দখল নিয়ে লাঠালাঠি, গালিগালাজ তো আকছার শোনা যায়। কিন্তু সালিশি সভায় বসে জামাইবাবুর কামড়ে রক্তাক্ত হলেন শ্যালক! এমন ঘটনা কার্যত বিরল। এবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই চাঞ্চল্য ছড়ালো দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং এলাকায়।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে গোপালপুর পঞ্চায়েতের বদুকুলা গ্রামে। বৃহস্পতিবার রাতে সম্পত্তি নিয়ে দুই পরিবারের বিবাদ মেটাতে পাড়ায় সালিশি সভা বসেছিল। সেই সভাই পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা চলছিল সমীর শিকারি ও তাঁর জেঠু পঞ্চু শিকারির মধ্যে। ঝামেলা মেটাতে গ্রামের মাতব্বরদের নিয়ে সালিশি ডাকা হয় গতকাল রাতে। দুই পরিবারের লোকজনই হাজির ছিলেন সেখানে।
অভিযোগ, সভায় কথা কাটাকাটি চলাকালীন হঠাৎই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন পঞ্চু শিকারির জামাই গোপাল ঘোষ। কথা-কাটাকাটির মাঝেই তিনি শ্যালক সমীর শিকারির উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। শুধু মারধর নয়, দাঁত বসিয়ে এলোপাথাড়ি কামড়াতে শুরু করেন। জামাইবাবুর কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যান সমীর। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কামড়ানোর পাশাপাশি মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধরও করা হয় সমীরকে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে কোনওক্রমে আহত যুবককে উদ্ধার করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে। সেখানেই বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর শরীরে একাধিক জায়গায় কামড়ের গভীর ক্ষত রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ক্যানিং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে আহতের পরিবার। অভিযুক্ত জামাইবাবু গোপাল ঘোষের বিরুদ্ধে মারধর ও প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে রাতের অন্ধকারে সালিশি সভার মধ্যেই এমন ‘কামড়-কাণ্ডে’ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীদের অনেকেই বলছেন, সম্পত্তির লোভে সম্পর্কের বাঁধন এতটা আলগা হয়ে যেতে পারে, তা ভাবতেও পারছেন না তাঁরা।