ওঙ্কার ডেস্ক : প্রত্যন্ত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের একটি গ্রামে পাক বিমান বাহিনী বোমা হামলায় ৩০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ঘটনাটি গত সপ্তাহের। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের শায়েস্তা করতে এই বিমান। তারই প্রতিবাদে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফ্ফরাবাদে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে ওই বিমান হামলায় বিধ্বস্ত এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ হামলা চালায়, যার ফলে ২ জন নিহিত এবং ২২ জন আহত হয়।
পাক সংবাদমাধ্যমগুলি যে সব ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছে তাতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ও ব্যাপক উত্তেজনা। এরকমই একটি ভিডিওতে এক বিক্ষোভকারী কয়েক মুঠো গুলি দেখিয়ে দাবি করেছেন যে পুলিশ গুলি চালিয়েছে।
‘মৌলিক অধিকার অস্বীকার’ করার প্রতিবাদে আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির নেতৃত্বে গত ২৪ ঘন্টা ধরে ব্যাপক বিক্ষোভে উত্তাল পাক অধিকৃত কাশ্মীর। এর ফলে বাজার, দোকানপাট এবং স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ। পাশাপাশি পরিবহন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলিতেও পঠনপাঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না হলেও এই পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ পড়ুয়ারা স্কুলে আসতে পারছে না।
বিক্ষোভকারীদের ৩৮টি দাবি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানে বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত পাক অধিকৃত কাশ্মীরি বিধানসভার ১২টি আসন বাতিল করা। স্থানীয়দের যুক্তি, এটি প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে। AAC নেতা শওকত নওয়াজ মীর জানিয়েছেন, “৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মৌলিক অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।” তাঁর সাফ কথা, হয় অধিকার দাও, নয়তো জনবিক্ষোভের মুখোমুখি হও”।

নওয়াজ মীর পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের প্রশাসনকে একটি কড়া সতর্কবার্তাও । যাতে এই ধর্মঘটকে ‘প্ল্যান এ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে, জনগণের ধৈর্য ফুরিয়ে গেছে এবং কর্তৃপক্ষ এখন সতর্ক। তিনি বলেন, AAC-এর ব্যাক-আপ পরিকল্পনা এবং একটি কঠোর ‘প্ল্যান ডি’ রয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ এই বিক্ষোভের প্রতি কঠোর মনোভাব নিয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদ ওয়েবসাইট ডন জানিয়েছে, ভারী অস্ত্র নিয়ে টহলরত দল পাক অধিকৃত কাশ্মীরের শহরগুলিতে পতাকা মিছিল করেছে এবং প্রতিবেশী পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে হাজার হাজার সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে অতিরিক্ত এক হাজার সেনা পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এই অঞ্চলে ইন্টারনেট অ্যাক্সেসও সীমিত করেছে। গত সপ্তাহের একটি মর্মান্তিক ঘটনার পর এই সপ্তাহে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সংঘর্ষ অব্যাহত।
