প্রদীপ মাইতি কাঁথি: বিজেপির অন্দরে ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, কার্যত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে বিজেপি বনাম বিজেপি । পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি-৩ ব্লকের দূরমুঠ গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিজেপিরই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি ব্যাপক উত্তাল হওয়ায় তা গড়ায় হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তিতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মারিশদা থানার পুলিশ।
পঞ্চায়েত প্রধান কাঞ্চন মন্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন বিজেপি সদস্যরা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে দূরমুঠ পঞ্চায়েত অফিস থেকে দইসাই ভাগাড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা। বর্ষায় এই কাঁচা রাস্তা ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। জানা যায়, মহরমের আগে রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দিলেও, পরে ইটভাটার ছাই ফেলে ‘সাময়িক’ সমাধানের চেষ্টা করেন প্রধান। পাশাপাশি পঞ্চায়েত অফিসে আগত সাধারণ মানুষদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে বসিয়ে রাখারও অভিযোগ প্রধানের বিরুদ্ধে। এছাড়াও, পঞ্চায়েতের গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম বিজেপির নির্বাচিত সদস্যদের একেবারে না জানিয়ে করা হত এমনটাও অভিযোগ। সেইসব অভিযোগের ভিত্তিতে কাঞ্চন মন্ডলের কাছে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে, তার অনুগামীরা বিক্ষোভকারীদের মারধর পর্যন্ত করে এমনও অভিযোগ। পঞ্চায়েত অফিসের মধ্যেই চলে লাগাতার ধস্তাধস্তি, তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয় বিজেপি বনাম বিজেপির মধ্যে।
অপরদিকে, এই ঘটনায় রিনা বারুই ও ভগবান চন্দ্র মন্ডল সহ একাধিক বিজেপি জনপ্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের সাফ বক্তব্য, এলাকায় স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির মাধ্যমে কাজ চালাচ্ছেন পঞ্চায়েত প্রধান। যদিও সমস্ত অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান কাঞ্চন মন্ডল। তার দাবি, “পঞ্চায়েতে কাজ চলছে স্বচ্ছ ভাবেই।”
বিজেপির দলের দলাদলি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম। তৃণমূল নেতা দিলীপ ভূঁইয়া বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, “নিজেদের পঞ্চায়েতেই নিজেদের দলের লোকজনের এমন মারামারি নজিরবিহীন।” অন্যদিকে, সিপিএম নেতা ঝাড়েশ্বর বেরা বলেন, “এটাই বিজেপির আসল চেহারা। গোষ্ঠীদ্বন্দেই তারা নিজেদের দল ভাঙছেন।”
তবে শেষপর্যন্ত, পরিস্থিতি সামাল দিতে পঞ্চায়েত প্রধান ১৫ দিনের মধ্যে রাস্তার কাজ শুরু করার আশ্বাস দিলে উত্তেজনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন দেখার, এই আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হয়, আর সেই বেহাল রাস্তা কবে পায় নতুন রূপ।
