নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: গৃহহীন পরিবার মাথায় স্থায়ী ছাদ পাবে, এমন প্রত্যাশা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাধের প্রকল্প বাংলার বাড়ি শুরু হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, প্রকৃত যোগ্যরা সবাই কি আদৌ বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অর্থ পেয়েছেন ? সাধারণ মানুষ তথা, গৃহহীন মানুষদের অনেকে বলছেন, গত বর্ষায় ঘর ভাঙার পর অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা কিন্তু ঘর পাননি। বরং ঘর পেয়েছেন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। যার বাড়ির নাম “সরেন মহল”। তিনি পেয়েছেন বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অর্থ ।
দলদলি গ্রামের একটু ভিতরের দিকে রয়েছে বস্তি। গত বর্ষায় বিশ্বজিৎ দত্ত নামে জনৈক গ্রামবাসীর বাড়ি পুরোপুরি ধসে গেছে। বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন দাদার বাড়িতে। সার্ভে করার পর তালিকা থেকে তাঁর নাম কাটা গেছে, এমন অভিযোগ জানিয়েছেন বিশ্বজিৎ। তাঁর বক্তব্য, যোগ্য হয়েও নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে কেবলমাত্র বিরোধী দল করার কারণে ।
ওই গ্রামের বিজেপি সমর্থক বীরেন্দ্রনাথ মাহাতোর বক্তব্য কেবলমাত্র বিজেপি করার জন্য আবাস যোজনা থেকে তাঁর নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। অথচ যাঁদের দরকার ছিল না, এমন কি যাঁদের পাকা বাড়ি রয়েছে- স্রেফ শাসক দলের ঘনিষ্ট হওয়ার কারণে তাঁরা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অর্থ সাহায্য পেয়েছেন।
দলদলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আলোমনি মাহাতো স্বীকার করেছেন তাঁর নাম বাংলার বাড়ি প্রকল্পের তালিকায় ছিল। কিন্তু তিনি সেই ঘর নেননি। পঞ্চায়েত প্রধান বলে তিনি তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। অথচ ওই পঞ্চায়েতেরই উপপ্রধান অবনী কুমার সরেন এই প্রকল্পের অর্থ সাহায্য নিয়েছেন। যদিও তাঁর বক্তব্য, তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। যদিও প্রধান জানিয়েছেন, তাঁর পদত্যাগ পত্র গৃহীত হয়নি। উপপ্রধানের বক্তব্য তাঁর পাকা বাড়ি থাকলেও সেখানে অনেকে শরিক রয়েছে। তাই তিনি পাবার যোগ্য।
বাংলার বাড়ি প্রকল্পে হুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮২৪ জন বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অর্থ সাহায্য পেয়েছেন। বাংলার বাড়ি প্রকল্প বা আবাস যোজনা নিয়ে ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে জেলার নানা প্রান্তে। বিরোধীদের দাবি, শাসক দলের অবশ্য তাতে বিশেষ কোনো হেলদোল নেই।
