নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়াঃ ২৬-এ রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে উঠে আসছে অসন্তোষের ছবি। কোথাও রাজনৈতিক অসন্তোষ, আবার কোথাও বঞ্চনার অসন্তোষ। এবার সেই বঞ্চনার তালিকায় উঠে এলো পুরুলিয়ার নাম।
জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। তিন শতাধিক স্কুল একজন মাত্র শিক্ষকের ভরসায় চলছে। কোথাও আবার শিক্ষকের অভাবে স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। আদালতের নির্দেশে পুরুলিয়া জেলাতে ২২১ জন প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ পত্র পেয়েছেন অতি সম্প্রতি। কিন্তু তাতে কি আদৌ কোন সমস্যার সমাধান হয়েছে উর্দু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে? জানা যায়, সেখানে পাঠানো হয়েছিল একজন বাংলা মাধ্যমের শিক্ষিকাকে। তিনি সেখানে গিয়ে ঘুরে এসেছেন। ফিরে আসার পর রাতারাতি তাকে অন্য স্কুলে পোস্টিং দিয়ে দেওয়া হলো। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের কাছে কি কোন হিসাব নেই যে কোথায় কত উর্দু প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই ভুলটা ইচ্ছাকৃত নাকি বোঝাপড়ার কারণে ? এবারের নিয়োগ নিয়েও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক অভিযোগ।
১৯৪৮ সালে পুরুলিয়া এক নম্বর ব্লকের ভান্ডারপুয়ারা বিএমসি উর্দু প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। ভান্ডারপুয়ারা -চিপিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের মোমেনডি গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাধিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। এখানকার শিশুরা এই উর্দু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। আড়াই বছর আগে বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক অবসর নেওয়ার পর আর কোন শিক্ষককে সেই স্কুলে পাঠানো হয়নি। যার ফলে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার একটি উর্দু প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকার মানুষ বলছেন গোটাটাই বঞ্চনা। কেউ বলছেন সংখ্যালঘু তোষণের নাটক চলছে। গোটাটাই ভাঁওতা ।
শাসকদলের নির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তামিম আনসারী বলেছেন হয়তো সরকার চায় না উর্দুভাষার বিকাশ হোক। সরকার হয়তো চায় না উর্দু ভাষায় এলাকার ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করুক ।
আব্দুল ওয়াহিদ নামে এক ব্যক্তি জানান, তার বাবা ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ ছেড়ে যাওয়ার পর আর কয়েকজন শিক্ষক এসেছিলেন, কিন্তু বিগত বছরে কোনো উর্দু শিক্ষক নিয়োগ হয় নি।
২০২৩ সালের জুন মাসে ওই বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক অবসর নিয়েছেন। সেই সময় ২০-২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ছিল ছিল বলে জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ আনজার হোসেন । সম্প্রতি যে ২২১ জন নতুন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগপত্র পেয়েছেন সেটা নিয়েও দুর্নীতির প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি রাজীব লোচন সরেন স্বীকার করে নিয়েছেন মোমেনডি উর্দু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন ছাত্র-ছাত্রী নেই। তাই নেই কোন শিক্ষক শিক্ষিকাও। তাহলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সেই উর্দু মাধ্যমের স্কুলে একজন বাংলা মাধ্যমের শিক্ষিকাকে কেন পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। রাতারাতি কেনই বা তাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হল। এটা কি নিছক ভুল নাকি নাকি অন্যকিছু বোঝা পড়া।
