নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সরব রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করছেন তিনি। মঙ্গলবার দিল্লিতে নিজের বাড়িতে বিরোধী নেতাদের নিয়ে চা-চক্রের পর মোদী সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাহুল। তার পাল্টা গুজরাতের পুরসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হার তুলে রাহুলকে কটাক্ষ করলেন শাহ।
শাহের খোঁচা, এই হারের জন্যও কি কংগ্রেস এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকেই দায়ী করবে? তিনি জানান, ২০২৪ সালের পর থেকে দেশে এসআইআর শুরু হয়েছে। কিন্তু রাহুল যখন থেকে রাজনীতি করছেন, তখন থেকেই কংগ্রেস হারছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারের জন্যও রাহুলকে এখন থেকেই প্রস্তুত থাকতে বলেছেন শাহ, পাশাপাশি আত্মসমীক্ষার পরামর্শও দিয়েছেন।
গান্ধীনগর পুরসভায় ৪৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে জিতেছে বিজেপি। এই পুরসভাটি শাহের লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে। ঠারা এবং ওখা পুরসভাও বিজেপির দখলে রয়েছে। এই ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে শাহ বলেন, রাহুল নিজের এবং কংগ্রেসের ব্যর্থতা ঢাকতে এসআইআরকে হাতিয়ার করছেন। তাঁর কথায়, “গুজরাতে বিজেপির এই বিপুল জয় ভোটারদের মানসিকতা তুলে ধরেছে। শুধু গুজরাত নয়, গোটা দেশের ভোটার এখন নরেন্দ্র মোদীর পিছনে কঠিন শিলার মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।”
শাহ আরও বলেন, “গত নির্বাচনের তুলনায় গান্ধীনগরে বিজেপির ভোট ১০ শতাংশ বেড়েছে। আমি স্পষ্ট বলতে চাই, রাহুলের কানে যাক যে, গত ৪১ বছরে কংগ্রেস এখানে একটাও ভোট জেতেনি।” রাহুলকে প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি বলেন, “গুজরাতের পুরভোটে এই হারের জন্যও কি এসআইআরকে দায়ী করবেন? বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তাও কি খারিজ করবেন? আপনার আত্মসমীক্ষা করা দরকার।” শাহ মনে করিয়ে দেন, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে উপনির্বাচনেও কংগ্রেস জিততে পারেনি।
রাহুলকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলেও কটাক্ষ করেন শাহ। তাঁর দাবি, ভোটে হারের অজুহাত হিসেবে এসআইআরকে ব্যবহার করছেন রাহুল। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে চতুর্থবার হারের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত তাঁর।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়াতে সোমবার রাহুলের বাড়িতে বিরোধী নেতারা ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ এবং জ্ঞানেশদের ঘিরে ‘জাল গুটিয়ে আসছে’। তাঁর সঙ্গে একই সুরে কথা বলেন নেহা বোরা, তেজস্বী যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত, সাগরিকা ঘোষরাও।
এই প্রসঙ্গে শাহ বলেন, “দেশের মানুষের কণ্ঠ রয়েছে মাঠে, খামারে, গ্রামে, পাহাড়ে, জঙ্গলে। সেখানে কংগ্রেসের পৌঁছনোর ক্ষমতা নেই। এই নেতিবাচক রাজনীতি তাদের কোনও সুবিধা করে দেবে না।”