স্পোর্টস রিপোর্টার : ৭৫ বল বাকি থাকতে দিল্লিকে ৯ উইকেটে হারিয়ে জয় দিয়ে রঞ্জি ট্রফির অভিযান শুরু করল বাংলা। তৃতীয় দিনের শেষে দিল্লির রান ছিল ৪৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১০১ এবং তারা পিছিয়ে ছিল ৮৮ রানে। বাংলা তাদের বোলিংয়ের উপর ভর করে দিল্লিকে ২৭৭ রানে গুটিয়ে দেয়। এর পর বাংলার সামনে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৮৯।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলা মাত্র এক উইকেট হারিয়ে রান তুলে ফেলে। অভিমন্যু ঈশ্বরন (৩৪) ও সুদীপ কুমার ঘরামি (১৬) অপরাজিত থাকেন। ওপেনার অঙ্কুর পাল ৩৮ রান করে আউট হন।
দ্বিতীয় ইনিংসে দিল্লির হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন আয়ুষ বাদোনি। তিনি করেন ৮৫ রান। অনুজ রাওয়াত করেন ৩৯।গোটা ম্যাচে চারটে ইনিংসের মধ্যে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান করেন অভিষেক পোড়েল। এক ইনিংসে তিনি ১৪৯ রান করেন। জামিনে ছাড়া পেয়ে ক্রিকেট মাঠে তাঁর এই কামব্যাক প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি ম্যাচের সেরা হন। তাঁর পাশাপাশি সাড়া জাগিয়েছেন পেসার মহম্মদ সামি। প্রথম ইনিংসে চার উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি নেন একটি উইকেট। তবে তাঁর নিয়ন্ত্রিত ও কৃপন বোলিংয়ে বাজিমাত করেছে বাংলা। প্রথম ইনিংসে তাঁর ইকোনমি ছিল ১.৭১, যেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর ইকোনমি ১.৬১। দিল্লিকে হারানোর পর বাংলা শিবিরে রয়েছে স্বস্তি ও সমীকরণ বদলের চিন্তাও। স্বস্তি কারণ, প্রথম ম্যাচে চোটের জন্য না খেললেও সার্ভিসেস ও কেরল – বাংলার পরের দুই ম্যাচের দলে এলেন অলরাউন্ডার শাহবাজ আমেদ। যিনি বহু ম্য়াচে বাংলাকে জিতিয়েছেন। কখনও ব্যাট হাতে, কখনও বাঁহাতি স্পিন বোলিংয়ে। তবে চিন্তাও রয়েছে কারণ, পরের দুই ম্যাচে আকাশ দীপ ও মুকেশ কুমার – দুই পেসারকে পাওয়া যাবে না। দুজনই ভারত এ দলের হয়ে নিউজ়িল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। যদিও বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল বুধবার দিল্লি ম্যাচের পর বলেছেন, ‘আকাশ ও মুকেশ না থাকায় নতুনদের কাছে নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ। কোনও অসুবিধা হবে না। কারও জন্য কিছু আটকে থাকে না।’ তবে পরের দুই ম্যাচে খেলবেন মহম্মদ শামি। দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট কী? লক্ষ্মীরতন বলছেন, ‘সুমন্তর স্পেল। ওকে আমি গত ২-৩ বছর ধরে অফস্পিন বল করাচ্ছি। ওকে ঠিক সময়ে বল করাতে আনল অধিনায়ক। পাশাপাশি আমরা কখনও বিশ্বাস হারাইনি। সেটাও ম্যাচের রাশ আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে।’ লক্ষ্মী যোগ করলেন, ‘শেষদিন পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। তবে আমরা কখনওই বিশ্বাস হারাইনি। জানতাম ম্যাচ জিতেই মাঠ ছাড়ব। ৮৯ রানের টার্গেট পাওয়ার পর ছেলেদের বলেছিলাম, তাড়াহুড়ো করিস না। ম্যাচ আমরাই জিতব। সেটাই হয়েছে।
সার্ভিসেস ও কেরল ম্যাচের জন্য নির্বাচিত বাংলা দল
অভিমন্যু ঈশ্বরণ (অধিনায়ক), সুদীপ কুমার ঘরামি (সহ অধিনায়ক), সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক পোড়েল (উইকেটকিপার), শাহবাজ আমেদ, শাকির হাবিব গাঁধী (উইকেটকিপার), অঙ্কুর পাল, সুমন্ত গুপ্ত, অঙ্কিত শুক্ল, শুভম চট্টোপাধ্যায়, মহম্মদ শামি, সূরয সিন্ধু জয়সওয়াল, প্রদীপ্ত প্রামাণিক, মহম্মদ কাইফ, আমির গনি, সৌম্যদীপ মণ্ডল, করণ লাল ও গীত পুরি।