ওঙ্কার ডেস্ক: মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছিলেন অঙ্কিতা ভাণ্ডারির বাবা-মা। তাঁদের সঙ্গে সামিল হয়েছিলেন বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতা। অভিযোগ, অঙ্কিতার বাবা মা-সহ বিরোধী দলের বেশ কয়েক জন নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, পুলিশ দুর্ব্যবহার করেছে। এই ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টের দিকে তাঁদের আটক করা হয়। ভোর ৫টা নাগাদ ছেড়ে দেওয়া হয়। কংগ্রেস নেতা সুপ্রিয়া শ্রিনেত, পবন খেরা এবং কাজী নিজামুদ্দিন পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, যারা অঙ্কিতা ভাণ্ডারির জন্য ন্যায়বিচার চাইছেন, প্রশাসন তাদেরই লক্ষ্যবস্তু করছে। এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘পুলিশ মহিলা বিক্ষোভকারীদের আটক করছে। সাংসদদের আটক করার সময় যেভাবে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। সরকারকে বুঝতে হবে, অঙ্কিতা ভাণ্ডারির বাবা-মায়ের চোখের জলের মূল্য তাদের চড়া দামে চোকাতে হবে।’
কংগ্রেস সাংসদ পবন খেরার অভিযোগ, পুলিশের এই আচরণ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার অবক্ষয়কেই তুলে ধরে। তাঁর কথায়, ‘এটি বর্বরতা। ইন্ডিয়া গেটে গণতন্ত্রের সমাপ্তি ঘটছে। ভোর ৪টের সময় গণতন্ত্র শেষ হয়ে যাচ্ছে।’ সিকিমের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল দুষ্যন্ত গৌতমকে নিশানা করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করছেন তাঁদের আটক করা হচ্ছে, অথচ যার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাকেই একটি সাংবিধানিক পদে নিয়োগ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অঙ্কিতাকে হত্যা করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর চিল্লা খাল থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় রিসোর্ট মালিক পুলকিত আর্য এবং রিসোর্টের দুই কর্মী সৌরভ ভাস্কর ও অঙ্কিত গুপ্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয় এবং ৩০ মে, ২০২৫ তারিখে কোটদুয়ারের অতিরিক্ত জেলা জজ রীনা নেগি তাঁদের হত্যা, প্রমাণ লোপাট ও অন্যান্য অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।