ওঙ্কার ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হন খামেনেই। তারপর ইরানের ক্ষমতায় বসেন মোজতবা খামেনেই। যদিও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তাঁর কোনো ভিডিও বা অডিও প্রকাশ করেনি ইরান কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পূর্তিতে রবিবার এক লিখিত বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রবিবার শিয়া সম্প্রদায়ের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকীতে মোজতবা বলেন, “ইসলামি জাতিগুলোর সমস্যার সমাধান হল ঐক্যবদ্ধ অবস্থান, বন্ধুত্ব এবং কল্যাণের পথে পারস্পরিক সহযোগিতা।” তাঁর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তিনি আরও বলেন, “যিনিই হোন এবং যে অবস্থানেই থাকুন না কেন—কেউ যদি এমন কোনো কাজ করেন যা মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি করে, তবে তিনি প্রকারান্তরে ইসলামের শত্রুদের উদ্দেশ্যই সাধন করছেন।”
সর্বোচ্চ নেতা আঞ্চলিক দেশগুলোর শাসকদের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা যেন “নিজেদের প্রকৃত শত্রুকে চিনে নেয়, তাদের পরিকল্পনা অনুধাবন করে এবং তাদের মোকাবিলা করে”। এর মধ্য দিয়ে তিনি যে আমেরিকা ও ইজরায়েলের কথা বোঝাতে চেয়েছেন তা অস্পষ্ট নয়।
যুদ্ধ চলাকালে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত আমেরিকার যে সব সামরিক ঘাঁটিকে টার্গেট করেছিল, তার মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী খামেনেই ইরানি আধিকারিক ও নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্য ভুলে ইজরায়েল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হন।
শুক্রবার দেওয়া আগের একটি বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, “ইরানি জনগণের প্রতি এই সেবকের আবারও পরামর্শ হল—কোনোভাবেই যেন নিজেদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য বা বিভেদ তৈরি হতে না দেওয়া হয়।” সেই বার্তায় তিনি আরও বলেছিলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি যে, সামাজিক সংহতির জন্য ক্ষতিকর যেকোনো কাজ নিষিদ্ধ।”
আমেরিকার নৌ-অবরোধ ও দীর্ঘদিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে, তিনি শুক্রবার ইরানি অর্থনীতিকে পর্যায়ক্রমে ডলার-নির্ভরতা থেকে মুক্ত করা এবং অগ্রগতির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক উৎপাদন বাড়ানোরও আহ্বান জানান।