
জয়ন্ত সাহা, আসানসোল: অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—মাত্র ৩০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ নিজে হাতে তৈরি এই ই-বাইক। এক অভিনব ইলেকট্রিক বাইক আবিষ্কার করে চমক দিয়েছেন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশনের আইটিআই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র। ধাদকা এলাকার বাসিন্দা রনি দত্ত, বর্তমানে কলেজের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক প্রজেক্ট প্রদর্শনীর জন্য তৈরি করেন এই অত্যাধুনিক বাইকটি। রনি বাইকটির নাম দিয়েছেন—”রনিক্স”।
রনি জানিয়েছেন, এই বাইক বানাতে গিয়ে তিনি টানা ১৮ দিন সেভাবে ঘুমোতে পারেননি। বাইকের ইঞ্জিন থেকে শুরু করে বডির নকশা—সব কিছুই করেছেন নিজের হাতে। শহরের রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে রনিকে তাঁর নিজস্ব তৈরি এই বাইক চালাতে।
চলুন জানা যাক কী কী রয়েছে এই স্মার্ট বাইকে ?
এই বাইকের বিশেষত্বের তালিকা এতটাই দীর্ঘ যে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য যেকারো।
চাবি নয়,গাড়ি চলবে টাচ স্ক্রিন ও অ্যাপ-এ :
বাইকটিতে নেই কোনও চাবি। চালু ও বন্ধ হয় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। টাচ স্ক্রিন ডিসপ্লে থাকায় বাইক পরিচালনা করাও অত্যন্ত সহজ।
ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তি :
বাইকের নিরাপত্তায় যুক্ত হয়েছে ফেস ডিটেকশন ফিচার। বাইকের মালিক ছাড়া কেউ স্টার্টই করতে পারবে না। তবুও কেউ জোর করে স্টার্ট করলে মালিকের মোবাইলে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসবে সতর্কবার্তা।
ক্যামেরা ও ট্র্যাকিং :
বাইকের সামনে ও পিছনে রয়েছে ক্যামেরা। বাইক কে চালাচ্ছে, কোথায় চলছে—সবই রেকর্ড হয় এবং তা রিয়েল টাইমে দেখা যায় মালিকের মোবাইলে, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে।
চাকা লক করার ব্যবস্থা :
প্রয়োজনে মালিক বাইকের পিছনের চাকা মোবাইল থেকেই লক করে দিতে পারবেন। ফলে ঠেললেও বাইক সরানো সম্ভব নয়।
জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি :
বাইক নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে গেলে তা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে এবং মালিকের মোবাইলে আসবে সতর্কবার্তা। এমনকি চোরকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েও সতর্ক করা যাবে।
রিজেনারেটিভ চার্জিং :
পাহাড় বা ঢালু রাস্তা দিয়ে নামার সময় পিছনের চাকা ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে বাইক নিজেই চার্জ হতে থাকবে ডায়নামো প্রযুক্তির মাধ্যমে। এই সবকটি অভিনবত্বের জন্য বাইক চুরি সম্ভাবনা নেই, এ যেন এক বিরাট স্বস্তি মালিকের জন্য।
দ্রুতগতি ও দীর্ঘ রেঞ্জ :
রনিক্স-এর সর্বোচ্চ গতি ৭০ কিমি/ঘণ্টা। একবার ফুল চার্জে এটি ১৫০ কিমি পর্যন্ত চলতে পারে। চার্জ হতে সময় লাগে মাত্র ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।
এই অভিনব আবিষ্কার নিয়ে রনি বলেন, “আমি চেয়েছিলাম এমন কিছু তৈরি করতে যা শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নয়, নিরাপত্তার দিক থেকেও এক ধাপ এগিয়ে। রনিক্স তাই শুধু একটি বাইক নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ স্মার্ট সিস্টেম।” রনির এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তাঁর শিক্ষক স্যার অঞ্জন পাল ও বিশ্বনাথ মহারজা। তাঁরা জানিয়েছেন, রনির ভাবনা ও নিষ্ঠা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।