তাপস মহাপাত্র
মহিলা প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণের প্রেক্ষাপটে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। এর জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। তেলেঙ্গানা বিজেপি প্রধান এন রামচন্দর রাও রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়েছেন। জানতে চেয়েছেন, তাঁর নিজের দলে কতজন নারী গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
মঙ্গলবার ‘এক্স’-এ রাহুল গান্ধী একটি পোস্ট দেন। সেখানে আরএসএস-কে ‘শুধুমাত্র পুরুষদের নিয়ে গঠিত, সংবিধানবিরোধী গোষ্ঠী’ বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, সংঘ নারীদের পুরুষের অধীনস্থ বলে মনে করে। তিনি লেখেন, “আরএসএস হল শুধুমাত্র পুরুষদের নিয়ে গঠিত একটি সংবিধানবিরোধী গোষ্ঠী, যারা বিশ্বাস করে যে নারীরা পুরুষদের সম্পত্তি।” রাহুল আরও বলেন, আরএসএস-এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে তিনি আনন্দ পান। তিনি দাবি করেন, সংঘের সঙ্গে যুক্ত অনেক নারীই এখন তাঁর পক্ষে রয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি শিব-শক্তিতে বিশ্বাস করি। আর সেই কারণেই তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমার এত আনন্দ হয়। সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হল, তাদের নিজেদের অনেক নারীই এখন আমার পক্ষে রয়েছেন।”
গান্ধীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মহারাষ্ট্রের বিজেপি বিধায়ক রাম কদম তাঁকে ‘অজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আরএসএস-এর একটি কার্যকর নারী শাখা রয়েছে। রাম কদম আরও বলেছেন, “রাহুল গান্ধী প্রায়শই আরএসএস নিয়ে নানা মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ বা কঠোর সমালোচনা করার অধিকার তাঁর অবশ্যই আছে, তবে তা করার আগে তাঁর বিষয়টি ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। তিনি কি জানেন না যে আরএসএস-এর নারীদের জন্যও একটি শাখা রয়েছে ? এটি সারা দেশজুড়ে কাজ করে এবং সেখানে নারীরা পুরুষদের মতোই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করেন।” এইসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন বিরোধী দলনেতার পক্ষে এ ধরনের ‘ছেলেমানুষি’ মন্তব্য মানায় না।”

নবরাত্রি ও দশেরার মধ্যে কী নারীশক্তিকে উস্কে দিতে রাহুল গান্ধী এমন একটি ইস্যু তুলে দিলেন ? রাজনৈতিক মহল মনে করছেন বিজেপির বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী সাম্প্রতিক লড়াইকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন তা যেন উৎসবের মরসুমে নিস্প্রভ না হয়ে যায় তাই এমন একটি ইস্যু সচেতন ভাবে তুলে এনেছেন। জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ করে জ্ঞানেশ ইস্যুতে বিজেপি এখন যে অনেকটাই কোনঠাসা তা বলাইবাহুল্য। কিন্তু সেই আন্দোলনের জোয়ার থমকে গিয়েছে দেশ জুড়ে নবরাত্রি উৎসবে। আপাতত দীপাবলির আগে ময়দানে নামার কোনো সুযোগ নেই। তাই রাহুল গান্ধী বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিইয়ে রাখতে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাহুলের অভিযোগের প্রসঙ্গে মুখ খুলেছে তেলেঙ্গানা বিজেপি প্রধান এন রামচন্দর রাও। তিনি নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, বরং বিজেপির নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাধা দিচ্ছে কংগ্রেস। এ বিষয়ে মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল-কে টেনে এনেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, “আপনারা যদি নারীবিদ্বেষী না-ই হন, তবে আসন পুনর্বিন্যাস সহ নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিষয়টিকে সমর্থন করছেন না কেন ?” যৌন অসদাচরণের অভিযোগে জেএনইউ থেকে বরখাস্ত হওয়া কংগ্রেস সাংসদের বিষয়ে দলের নীরবতাকে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা প্রশ্ন তোলেন, এই ঘটনায় কংগ্রেস কী পদক্ষেপ নিয়েছে? “যৌন হেনস্থার অভিযোগে জেএনইউ থেকে সাসপেন্ড ও চাকরিচ্যুত হওয়া আপনাদেরই দলের সাংসদের বিরুদ্ধে আপনারা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? এটি কংগ্রেস দলের এক ভণ্ডামিপূর্ণ অবস্থান।”
লিঙ্গ সংক্রান্ত বিষয়ে রাহুলের আরএসএস-এর সমালোচনা নতুন কিছু নয়। এর আগে গত আগস্ট মাসে পুনেতে তরুণদের নিয়ে আয়োজিত কর্মসূচি ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’-এ বক্তব্য রাখার সময়, রাহুল গান্ধী মনুস্মৃতির নারীবিদ্বেষী ও পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। “পিতৃতন্ত্র ধ্বংস করো” স্লোগান তুলেছিলেন। এর জবাবে বিজেপি ভারতীয় শাস্ত্র সম্পর্কে রাহুলের জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।