ওঙ্কার ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিচালনার ঘটনায় ধৃত তিন অভিযুক্তকে রাজস্থানের কোটা থেকে মুম্বই নিয়ে যেতে একাধিকবার গাড়ি বদল করেছে পুলিশ। প্রায় ৯০০ কিলোমিটারের এই যাত্রায় তিনটি ইনোভা ক্রিস্টা ব্যবহার করা হয়। যাত্রাপথে অন্তত চার বার অভিযুক্তদের এক গাড়ি থেকে অন্য গাড়িতে স্থানান্তরিত করা হয়। নিরাপত্তার কারণে কনভয়ের রুটও তিনবার পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে রিপোর্টে দাবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম হৃতিক কুমার ওরফে রোশন (২২), রেহান (১৮) এবং ফুল সিং (১৮)। হৃতিক বিহারের বাসিন্দা। বাকি দু’জন হরিয়ানার বাসিন্দা। সোমবার সকালে কোটার রেলস্টেশনে পুণে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। তার আগের দিন, রবিবার, মুম্বইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়ির চালক এবং এক পথচারী জখম হন। ইতিমধ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। ধৃতদের নেপালে পালানোর পরিকল্পনা ছিল। পরে কোটা পুলিশ তাঁদের মুম্বই পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ কোটা থেকে যাত্রা শুরু করে পুলিশের কনভয়। প্রথমে দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করা হয়। একটি সাদা ইনোভা ক্রিস্টা, অন্যটি রুপোলি রঙের ইনোভা ক্রিস্টা। দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ে ধরে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় কনভয়টি। এই যাত্রায় সাংবাদিকদের একটি দলও তাদের পিছু নেয়। প্রথমে সাদা ইনোভায় রাখা হয়েছিল তিন অভিযুক্তকে। অন্য গাড়িতে ছিলেন পুলিশকর্মীরা। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ গুজরাতের ভরুচের কাছে থামে দুটি গাড়ি। সেখানেই অভিযুক্তদের সাদা গাড়ি থেকে রুপোলি ইনোভায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর দুই গাড়ির গতির মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যায়। সাদা ইনোভাটির গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটারের নীচে নেমে আসে। অন্যদিকে, রুপোলি গাড়িটি এক্সপ্রেসওয়েতে ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে এগোতে থাকে। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মহারাষ্ট্রের নম্বরপ্লেট লাগানো আরও একটি রুপোলি ইনোভা কনভয়ে যোগ দেয়। ওই গাড়িতে সাদা পোশাকে পুলিশকর্মীরা ছিলেন। এরপর কনভয়টি একটি রেস্তরাঁর কাছে থামে। এক পুলিশকর্মী ভিতরে গেলেও কিছুক্ষণ পর কোনও খাবার না কিনেই বাইরে বেরিয়ে আসেন।