ওঙ্কার ডেস্ক: মঙ্গলবার গভীর রাতে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের উপকূলে আঘাত হানে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৮.৮, যা বিশ্বের ইতিহাসে ষষ্ঠ শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সমুদ্রের গভীরে উৎপত্তিস্থল হওয়ায় এই ভূকম্পনের জেরে প্রবল সুনামির আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে রাশিয়া, জাপান, হাওয়াই, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ উপকূল জুড়ে।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় প্রথম ধাক্কা খায় রাশিয়ার সেভেরো-কুরিলস্ক শহর। তিনটি শক্তিশালী সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ে উপকূল এলাকায়। রাশিয়ার সাখালিন অঞ্চলের গভর্নর ভ্যালেরি লিমারেঙ্কোর কথায়, “শেষ ঢেউটি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছিল। জাহাজ ছিঁড়ে ভেসে গেছে, বাড়িঘর জলের তোড়ে স্থানচ্যুত।” ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ছে বিশালাকার ঢেউ। শহরের একাংশ কার্যত জলের নীচে।
হাওয়াইতেও একই চিত্র। গভর্নর জশ গ্রিন জানিয়েছেন, “সুনামি কেবল কোনও একটি সৈকত নয়, গোটা দ্বীপপুঞ্জ ঘিরেই প্রভাব ফেলবে।” উপকূলবর্তী অঞ্চল খালি করে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে উঁচু জায়গায়।জাতীয় গার্ড বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে প্রতিটি কাউন্টিতে। হিলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ, বাতিল সব বাণিজ্যিক উড়ান।
জাপানে এখনো পর্যন্ত ঢেউয়ের উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম প্রায় ১ থেকে ১.৫ ফুট। তবে এখানেও সতর্কতা জারি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুনামির দিক মূলত হাওয়াই ও দক্ষিণ আমেরিকার দিকে হওয়ায় জাপান কিছুটা রক্ষা পেয়েছে।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলিতেও জারি হয়েছে সতর্কতা। ইকুয়েডরের ওশেনোগ্রাফিক ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে ১.৪ মিটার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। এই দ্বীপপুঞ্জ পৃথিবীর এক গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের কেন্দ্রস্থল সেখানকার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
চিলি, পেরু, মেক্সিকো, পানামা প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী সব দেশেই জারি হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। চিলির জাতীয় সুনামি সতর্কতা সংস্থা উপকূল ফাঁকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পেরু, মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকার নৌবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলোও সক্রিয়ভাবে নজর রাখছে পরিস্থিতির ওপর।
ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তর অংশ বিশেষত ক্রেসেন্ট সিটি ও ক্যাপ মেনডোসিনো এখন আতঙ্কের ঘরে। প্রায় ২ থেকে ৫ ফুট ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ১৯৬৪ সালের স্মৃতি এখানকার মানুষকে এখনো কাঁপিয়ে তোলে, যখন এক সুনামিতে কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল ক্রেসেন্ট সিটি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের সময় সমুদ্রতলে যে ফাটল তৈরি হয়, সেখান থেকে নির্দিষ্ট দিক বরাবর জলচাপ ছুটে যায় একে বলা হয় ‘ডাইরেকশনাল এনার্জি ওয়েভ’। এবার সেই চাপের দিক মূলত হাওয়াই ও দক্ষিণ আমেরিকার দিকে হওয়ায় ওইসব অঞ্চলে ঢেউয়ের উচ্চতা বেশি হতে চলেছে।এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা “আপাতত বলা যাচ্ছে না সুনামি কতটা ভয়াবহ হবে। তবে বিপদ এখনো কেটে যায়নি।” উপকূলবাসীদের নিরাপদ দূরত্বে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনওভাবেই সতর্কতা উপেক্ষা করা যাবে না, কারণ আরও ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।
