নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: অবশেষে তিন দিন পর সোমবার গুজরাটে মৃত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ ফিরল রাজ্যে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নামখানার দক্ষিণ শিবপুর এলাকার বাসিন্দা বছর ১৯-এর মানিক মন্ডল মাস চারেক আগে পাতিবুনিয়ার এক ঠিকাদারের অধীনে গুজরাটের জামনগরে পাইপলাইনের কাজে গিয়েছিলেন। গত ২৯ জানুয়ারি পরিবারের কাছে খবর আসে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জামনগরের এক হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে মানিকের।
ছেলের মৃত্যুর খবর আসতেই পরিবার ও গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে ঠিকাদার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জের দক্ষিণ শিবপুর এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
মানিক পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে তাই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পরিবারের সকলের। মানিকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই পরিবারের লোকজন পাতিবুনিয়ার ওই ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, ঠিকাদার কোনও সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। তিন দিন অতিক্রান্ত হলেও দেহ গ্রামে না ফেরায় দানা বাঁধে রহস্য, তার পরেই ঠিকাদারের অফিসে চড়াও হন তারা। ঠিকাদারকে হাতের কাছে পেয়ে রবিবার রাতে একটি স্থানীয় স্কুলে আটকে রাখে গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ফ্রেজারগঞ্জের প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যরা। শেষে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ এসে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে এবং ঠিকাদারকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এদিন দুপুরে যুবকের মৃতদেহ পৌঁছয় গ্রামে । মৃত মানিককে দেখতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। ছেলের দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার।
