গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মাঘ মাসের মধ্যগগন আর বাজছে শীতের বিদায় ঘণ্টা। আর শীতকাল মানেই গরম রুটি সাথে নলেন গুড়। বা নলেন গুড়ের মোয়া। তবে শীতের শেষলগ্নে এসেও যেন নলেন গুড়ের চাহিদা কোনো অংশে কমে নি। এ বছর জয়নগরের মোয়ার জন্য নলেন গুড়ের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণে।আর নলেন গুড় ছাড়াই কোনভাবেই তৈরি হবে না জয়নগরের মোয়া। এবার সেই চাহিদা মেটাতেই গাছে উঠতেও পিছু পা হচ্ছেন না মহিলারা।
হাতে আর কয়েকদিন বাকি, শীত শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু মোয়ার চাহিদা সারা বছর একই ভাবে থাকবে। মোয়া তৈরিতে প্রধান খেজুর গাছের রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে নলেন গুড়। এখনো কাটা চলছে সারি সারি খেজুর গাছ। কিন্তু ক্রমশ খেজুর গাছের অভাবে সঙ্কটে পড়েছে জয়নগর, বহডুর মোয়া শিল্প। অন্যদিকে শিউলিদের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। তাই এই ঘাটতি পূরণ করতে গাছে উঠছে হচ্ছে মহিলাদের।
অন্যদিকে, খেজুর গাছের সংখ্যাও কমছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেও কিছু গাছের মৃত্যু হয়েছে। মোয়া শিল্পকে বাঁচাতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
খেজুর গাছ কেটে পাওয়া রস থেকে তৈরি নলেন গুড় এই মোয়া তৈরির অন্যতম উপাদান। এই খেজুর গাছ যাঁরা কাটেন, তাঁদেরকেই শিউলি বলে। কিন্তু এখন সেই শিউলির সংখ্যাই কমছে। ৭০-৮০ জন শিউলি ছিলেন এলাকায়। কিন্তু এখন সেই সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ২০-তে। তবে মহিলারা খেজুর গাছের রসের খোঁজে গাছ কাটতে যাওয়ায় মনে হচ্ছে আগামী দিনে শিউলীদের অভাবটা কিছুটা হলেও কমবে বলেই আশাবাদী শিউলিরা।
