ওঙ্কার ডেস্ক: বীরভূমের নানুরে ফের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। বুধবার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের ভয় কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবারও অজয় নদের তীরে জেলেদের জালে উঠে এল আরও একটি একই ধরনের বোমা। ঘটনাস্থল লাউদহ গ্রামের কাছে, আগের বিস্ফোরণস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে। টানা দুই দিনে পরপর দুটি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাউদহ সংলগ্ন অজয় নদে মাছ ধরছিলেন কয়েকজন জেলে। হঠাৎ তাঁদের জালে ভারী কিছু আটকে যায়। টেনে তোলার পর বোঝা যায়, সেটি একটি পুরনো বোমা। সঙ্গে সঙ্গে খবর যায় বোলপুর থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করে। প্রশাসন জানিয়েছে, সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং বোমাটি যাতে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এলাকায় এখন চরম আতঙ্ক। বুধবারের বিস্ফোরণে অজয় নদের তীরে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছিল। সেই কম্পনের অভিঘাতে কেঁপে উঠেছিল আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা। অনেকের বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরেছে বলেও অভিযোগ। বৃহস্পতিবার ফের একই ধরনের বোমা উদ্ধার হওয়ায় গ্রামবাসীরা আতঙ্কে প্রায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, “প্রতিদিনই নতুন করে ভয় পাচ্ছি। কোথা থেকে আবার বোমা উঠে আসে, কে জানে! এখন নদীতে নামতেও ভয় লাগছে।” তাঁদের একটাই দাবি যত দ্রুত সম্ভব বোমাটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়া হোক।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নদীর ওই অংশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলের পথে রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনাদের অস্ত্রভাণ্ডারের কিছু অংশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিরই একটি অংশ হয়তো জলের তলদেশে এতদিন পড়ে ছিল।
অজয় নদ তীরবর্তী লাউদহ অঞ্চলে এখন ভয়ের ছায়া। বুধবারের বিস্ফোরণের পর থেকে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। সেনা ও পুলিশের যৌথ তৎপরতায় এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। প্রশাসনের দাবি, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটেছে গ্রামাঞ্চলে।
