ওঙ্কার ডেস্ক: ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫’-এর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, সেমিকন্ডাক্টর চিপ এখন আর কেবল প্রযুক্তির অঙ্গ নয়, এগুলি আসলে আধুনিক যুগের ‘ডিজিটাল হিরে’। তেলকে যেমন একসময় ‘কালো সোনা’ বলা হত, তেমনই এই চিপকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যতের দুনিয়া। মোদীর দাবি, ভারতই নেতৃত্ব দেবে সেই দুনিয়াকে। শুধু উৎপাদন নয়, সেমিকন্ডাক্টরকে কেন্দ্র করে এক বৃহৎ ইকোসিস্টেম তৈরির লক্ষ্যও স্থির করেছে কেন্দ্র।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিও ফিজিক্স বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষকরা ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনের পরবর্তী ধাপে কাজ শুরু হয়েছে। নতুন ‘ডিজাইন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ’ প্রকল্পের অংশ হিসাবে কলকাতাতেই শুরু হয়েছিল গবেষণা, যা সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিয়েছে।
বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডক্টর সৌম্য পণ্ডিত জানিয়েছেন, এতদিন টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন তৈরির জন্য বিদেশ থেকে চিপ আমদানি করতে হত। মোদীর উদ্যোগেই দেশে নিজস্ব চিপ উৎপাদনের পথ খুলেছে। ইতিমধ্যেই গুজরাট, অসম, কর্ণাটক-সহ চারটি জায়গায় সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপন হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রয়োজন পড়বে প্রায় ৮৫ হাজার ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ডিজাইনারের। প্রতিবছরই লাগবে অন্তত ১৭ হাজার করে দক্ষ ডিজাইনার। ডক্টর পণ্ডিত আরও জানান, এতদিন দেশের অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলির পক্ষে চিপ ডিজাইন সম্ভব ছিল না, কারণ প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার টুলস অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এখন ‘চিপ টু স্টার্ট-আপ’ প্রোগ্রামের আওতায় আসার ফলে গবেষণা অনেক সহজ হয়েছে। সমৃদ্ধ হয়েছে ল্যাবরেটরিগুলিও।
মোদী এদিন আরও বলেন, ‘‘বিশ্ব আজ ভারতের উপর আস্থা রাখছে। ২০২১ সালের পর থেকে ১০টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পে প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতই গড়ে তুলবে ভবিষ্যতের সেমিকন্ডাক্টর দুনিয়া”।
