একসময় কচিকাঁচাদের কোলাহলে মুখর থাকত স্কুল চত্বর। আবাসিক হোস্টেলে থাকত প্রায় ৮০ জন ছাত্রী। আর আজ? বিশাল দোতলা স্কুলবাড়ি আছে, বড় মাঠ আছে, বাগানঘেরা মনোরম পরিবেশও আছে, শুধু নেই পড়ুয়ার ভিড়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের ব্রজবল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রমোহনপুর ভগবতী বালিকা বিদ্যালয়ের করুণ দশা ঘিরে এখন উঠছে বড় প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বালিকা বিদ্যালয়। করোনার আগে পর্যন্ত স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল ২৫০-এরও বেশি। তপশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের ছাত্রীদের জন্য ছিল হোস্টেলের ব্যবস্থা, সেখানে থেকেই পড়াশোনা করত প্রায় ৮০ জন ছাত্রী।
কিন্তু করোনা পর্বের পর থেকেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে। চলতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে স্কুলের পোর্টালে কাগজে-কলমে ছাত্রীর সংখ্যা মাত্র পাঁচ। পঞ্চম শ্রেণিতে দু’জন, সপ্তম শ্রেণিতে একজন এবং অষ্টম শ্রেণিতে তিনজন। ষষ্ঠ, নবম ও দশম শ্রেণিতে কোনও ছাত্রীর নামই নেই।
অভিযোগ, ওই পাঁচ ছাত্রীকেও নিয়মিত স্কুলে দেখা যায় না।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়ে। ছাত্রী কার্যত না থাকলেও স্কুলে রয়েছেন সাতজন শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ক্যাজুয়াল শিক্ষিকা এবং কম্পিউটার শিক্ষিকাও। তাঁরা নিয়মিত স্কুলে আসেন, হাজিরা দেন, কিন্তু পড়াবেন কাকে?
অন্যদিকে একসময়ের জমজমাট আবাসিক হোস্টেল এখন পরিত্যক্ত। সেখানে পড়ে রয়েছে ছাত্রীদের ফেলে যাওয়া ট্রাঙ্ক, জামাকাপড়, বই-খাতা, বিছানার সরঞ্জাম। ধুলো জমা সেই সব জিনিস দেখলেই বোঝা যায়, এই হোস্টেল একসময় কতটা প্রাণবন্ত ছিল।
জেলার বহু স্কুলে যেখানে ছাত্রছাত্রী থাকলেও শিক্ষকের অভাবে পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে, সেখানে ছাত্রীবিহীন একটি স্কুলে সাতজন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী কেন, ক্যাজুয়াল ও কম্পিউটার শিক্ষিকার প্রয়োজনীয়তাই বা কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে শিক্ষা দপ্তরের কোনও স্পষ্ট বক্তব্য এখনও মেলেনি।
এইভাবে চলতে থাকলে ঐতিহ্যবাহী এই বালিকা বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।