রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে ফের মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। লশকর-এ-তৈবার প্রধান হাফিজ সঈদ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই উত্তর না দিয়ে পালিয়ে গেলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একবার নয়, পরপর দু’বার একই ঘটনা ঘটল।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮১তম সাধারণ সভায় যোগ দিতে সদর দফতরে ঢুকছিলেন শাহবাজ। তখন ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ANI-এর এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, “আপনারা কবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করবেন?” কোনও উত্তর না দিয়েই দ্রুত ভিতরে ঢুকে যান তিনি।অধিবেশন শেষে বেরনোর সময় ফের একই প্রশ্নের মুখে পড়েন পাক প্রধানমন্ত্রী। সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “লশকরের প্রধান হাফিজ সঈদের বিরুদ্ধে আপনারা কবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করবেন?” এবারও মুখে কুলুপ এঁটে দ্রুত গাড়ির দিকে হাঁটা দেন শাহবাজ।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ভারত-পাক সম্পর্ক তলানিতে। ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সঈদ। গত বছর পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর হামলার পিছনেও তার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর হাত রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গত মাসে NIA-এর চার্জশিটেও নাম রয়েছে সঈদের। ভারত বারবার প্রমাণ-সহ জানিয়েছে, জামাত-উদ-দাওয়া ও ফালাহ-ই-ইনসানিয়াতের আড়ালে সন্ত্রাসে অর্থ জোগাড় করছে সঈদ। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক চাপে ওই দুই সংগঠন নিষিদ্ধ হলে ‘মিল্লি মুসলিম লিগ’ এবং পরে ছেলে তলহা সঈদকে নিয়ে ‘পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ’ নামে রাজনৈতিক দল খোলে সে।
পহেলগাঁও হামলার পর ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। পাকিস্তানের সঙ্গে সবরকম কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কার্যত বন্ধ। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখা হয়েছে। ভারতের অবস্থান, সীমান্ত পারের সন্ত্রাস বন্ধ না হলে কোনও আলোচনাই নয়। আর রাষ্ট্রপুঞ্জে শাহবাজের এই পলায়ন আরও একবার প্রমাণ করল, সন্ত্রাস ইস্যুতে বিশ্বের সামনে উত্তর দেওয়ার মতো মুখ নেই ইসলামাবাদের।