নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যে। আলোয় ঝলমল করছে তিলোত্তমা। ঢাকের বোলে মেতে উঠেছে শহর। ঠিক তখনই নেমে এল অন্ধকার। চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ জন। যে মণ্ডপের চমক দেখার জন্য জেলা থেকে শহরমুখী হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ, সেই মণ্ডপে আজ কেবল শ্মশানের নীরবতা। কেউ নেই, এল নেই, ভিড় নেই। আছে কেবল দেবীর মূর্তি এবং নিস্তব্ধতা।
গতকাল দশমীর আনন্দে মেতে উঠেছিল শহর। কিন্তু সেই অন্যদের রেশ পৌঁছায়নি চোরবাগান সার্বজনীন। গতকাল মণ্ডপে কেউ সিঁদুর খেলেননি। দেবীর কপালে ওঠেনি সিঁদুর। সপ্তমীর অভিশপ্ত দিনের পর থেকে একাই দাঁড়িয়ে রয়েছে দেবীর প্রতিমা। পাহারায় রয়েছে প্রচুর পুলিশ। তবে দশমীর ছবিটা যে এমন করুন হবে তা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি পুজো উদ্যোক্তারা।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, গতকাল স্রেফ নিয়ম রক্ষা হয়েছে। দেবীবরণ হয়নি। প্রথা মেনে শুধু ঘট বিসর্জন হয়েছে। প্রতিমা এখনও মণ্ডপেই। কবে নিরঞ্জন হবে, কেউ জানে না। কারণ, ঘটনার তদন্ত করছে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে, রিপোর্ট তৈরি করবে। পুলিশি ছাড়পত্র না মেলা পর্যন্ত প্রতিমা নিরঞ্জন বিশ বাঁও জলে।
কিন্তু কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়? সেটাই খুঁজে বের করা সিটের প্রধান কাজ। কখন, ঠিক কোন জায়গায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, মণ্ডপে ধারণক্ষমতার বেশি মানুষ ঢুকে পড়েছিল কি না, সবকিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। সেদিন বৃষ্টি, মণ্ডপ ভেঙে পড়ার গুজব — একাধিক তথ্য সামনে আসছে। কোনটা সত্যি, কোনটা গুজব, তাও খতিয়ে দেখবে কমিটি।
এদিকে এই ঘটনায় জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। এর জন্য পৃথক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমও গঠন করা হয়েছে, যেখানে কলকাতা পুলিশ বা পুরসভাকে রাখা হয়নি।