সাইনাস হলো নাক ও কপালের চারপাশের হাড়ের ভেতরে থাকা বায়ুপূর্ণ গহ্বর। এই গহ্বরগুলোর ভেতরের আবরণে প্রদাহ হলে তাকে সাধারণভাবে সাইনাসাইটিস বলা হয়। ঠান্ডা-সর্দি, অ্যালার্জি, ভাইরাস বা কখনও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে সাইনাসের পথ ফুলে গিয়ে মিউকাস আটকে যেতে পারে। তখন দেখা দিতে পারে নানা ধরনের অস্বস্তিকর উপসর্গ।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
সাইনাসের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হলো নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা নাক দিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। ঘন সর্দি বা নাক দিয়ে হলুদ-সবুজ ধরনের মিউকাস বের হওয়াও দেখা যেতে পারে। অনেকের কপাল, গাল, নাকের দুপাশ বা চোখের চারপাশে চাপ, ব্যথা কিংবা ভারী অনুভূতি হয়। সামনে ঝুঁকলে এই চাপ বা ব্যথা আরও বাড়তে পারে।
এর পাশাপাশি মাথাব্যথা, গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া, গলা দিয়ে মিউকাস নেমে আসা (post-nasal drip), কাশি এবং মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। কখনও জ্বর, ক্লান্তি বা শরীর খারাপ লাগার মতো উপসর্গও দেখা দেয়। তবে শুধু সর্দি বা মাথাব্যথা হলেই যে সাইনাসাইটিস হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
কেন হয়?
সাধারণ ভাইরাল সর্দি-কাশি সাইনাসের প্রদাহের একটি বড় কারণ। অ্যালার্জি, ধুলো-বালি ও ধোঁয়ার সংস্পর্শ, নাকের ভেতরের গঠনগত সমস্যা এবং বারবার শ্বাসনালির সংক্রমণও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। উপসর্গ কতদিন ধরে রয়েছে এবং কী ধরনের লক্ষণ রয়েছে—তার ওপর চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে।
উপশমের উপায় কী?
পর্যাপ্ত জল পান, বিশ্রাম এবং নাক পরিষ্কার রাখার চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। স্যালাইন নেজাল স্প্রে বা নাক ধোয়ার পদ্ধতি নাকের মিউকাস পাতলা করতে সহায়তা করতে পারে। গরম জলের বাষ্প কিছু মানুষের সাময়িক আরাম দিতে পারে। ব্যথা বা জ্বর থাকলে উপযুক্ত ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
অ্যান্টিবায়োটিক সব সাইনাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় না, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই কারণ ভাইরাস। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে, খুব তীব্র ব্যথা বা উচ্চ জ্বর হলে কিংবা চোখের চারপাশে ফোলা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিক কারণ শনাক্ত করেই কার্যকর চিকিৎসা বেছে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।