ওঙ্কার ডেস্ক: স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের কাজের চাপে এক বিএলও আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়ির ডুয়ার্সের মাল ব্লকের নিউ গ্লেনকো চা বাগান এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে নিহত বুথ লেভেল অফিসারের নাম শান্তিমুনি ওঁরাও। বয়স ৪৮ বছর। পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী শান্তিমুনি রাঙামাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০/১০১ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন। বিএলও এর মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিযোগ, এসআইআর এর কাজের চাপ শান্তিমুনি সামলাতে পারছিলেন না। সারাদিন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কাজ, সংসারের কাজ করে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সামলাতে পারছিলেন না তিনি। প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য। কিন্তু অভিযোগ, কমিশনের তরফে জানানো হয় শান্তিমুনিকে কাজ করতে হবে বলে। মৃতার স্বামী সুখ এক্কা বলেন, ‘বাংলা ভাষায় ফর্ম দিয়েছে কমিশন। কিন্তু এখানে বেশিরভাগ মানুষ হিন্দিভাষী। তাই ভুল হচ্ছিল প্রচুর। প্রতি দিন সন্ধ্যায় বহু মানুষ বাড়িতে আসতেন। কাজের চাপ সামলাতে পারছিলেন না তিনি।’ জানা গিয়েছে, বুধবার বাড়ির পাশ থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
‘গভীরভাবে মর্মাহত এবং শোকাহত। আজ আবারও, আমরা জলপাইগুড়ির মালে একজন বুথ লেভেল অফিসারকে হারিয়েছি – শ্রীমতি শান্তি মুনি এক্কা, একজন আদিবাসী মহিলা, একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী যিনি চলমান এসআইআর কাজের অসহনীয় চাপে আত্মহত্যা করেছেন। এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন — কেউ ভয় এবং অনিশ্চয়তার কারণে, কেউ অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে।’ পাশাপাশি এসআইআরের কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, এর আগে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ব্রেন স্ট্রোক হয়ে মৃত্যু হয়েছিল বিএলও নমিতা হাঁসদার। মেমারির চক বলরামপুরে ২৭৮ নম্বর বুথের বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
