বিপ্লব দাশ : SIR নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এখন থমথমে আবহ। বিশেষ করে যুযুধান দুই শিবিরের ভূমিকা কী হবে তার মধ্যেই চাপা পড়ে আছে ভবিষ্যতের আগুন। বাংলাদেশী ইস্যুতে বুমেরাং পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল, SIR কী তাতে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেবে ? বিজেপির কাছে এটাই এখন বড় প্রশ্ন। অন্যদিকে SIR হলে তৃণমূলের যে এতদিনের ভোট কৌশল ও তার হিসেব ধাক্কা খাবে এটাও নিশ্চিত। যদি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা ধরা হয়, তাহলে সামনের ভোটের দিকে তাকিয়ে বিজেপির হাতে যেমন এটা ছাড়া কার্যত আর কোনো পথ নেই, তেমনি এর বিরোধিতা কি ভাবে ভোট দানকে প্রভাবিত করা যায় তা নিয়ে এখন তৃণমূলের যথেষ্ট মাথা ব্যথা। কারণ SIR হলে ‘বাঙালি আবেগ’ কতটা কার্যকরী হবে তা নিয়ে ধন্ধে তৃণমূল। বিজেপিও যে বাংলায় তার আগের ইস্যুগুলি নিয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে রয়েছে। সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্বের সাংগঠনিক তৎপরতায় তার আভাস মিলছে। সব মিলিয়ে দুই শিবিরেই একটা দিশেহারা ছবি দেখা যাচ্ছে গত দু সপ্তাহ ধরে। বিশেষ করে বিহারে SIR-এর কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি যখন এই বঙ্গে এসে পড়ল তখন থেকে জল মাপতে শুরু করেছে দুই শিবির। এই বিষয়ে বিজেপিও যে সতর্ক তাও বোঝা গেছে। SIR নিয়ে বাইরে কোনো মন্তব্য নয়, একথা দলের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলও SIR-এর সঙ্গে NRC মিশিয়ে একটা গজঘন্ট পরিস্থিতিতে রয়েছে। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, রাজ্যের ভোট পূর্ব পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে !
বর্তমানে এই সম্ভাবনার উপরই দাঁড়িয়ে রয়েছে ২৬শের হিসেব নিকেষ। প্রশ্ন এটাও, আদৌ কি মে মাসের মধ্যে SIR-এর কাজ সম্পূর্ণ হবে ? তা যদি না হয় তাহলে রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা সংবিধানিক সংকটে পড়বে। সেক্ষেত্রে রাজ্যপালের অধীনে চলে যাবে রাজ্যের শাসন ভার। প্রকারান্তরে কেন্দ্রের অধীনে। যা অনেকটা জরুরি অবস্থার মতো। তখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে SIR-এর কাজ সম্পূর্ণ করে সংশোধিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোট করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। বিরোধীদের দাবি, তার ফলে অন্তত ১ কোটি অবৈধ ভোটার বাদ পড়বে। যার পুরোটাই তৃণমূলের ঝুলি থেকে যাবে বলে বিজেপির ধারণা। কিন্তু এসব করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হবে না তো ? বিজেপির মধ্যে এই আশঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনি এমন পরিস্থিতির ফায়দা কিভাবে তোলা যায় তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তৃণমূল। তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, বাংলার রাজনীতিতে ২৬শের ভোট এক নজিরবিহীন ইতিহাস রচনা করতে চলেছে। কারণ, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হয়নি পশ্চিমবঙ্গ। জরুরি অবস্থার সময়ও নয়।
