ওঙ্কার ডেস্ক: বঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় গত সপ্তাহেই খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক যাচাইয়েই দেখা গিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের তথ্যে একাধিক গরমিল রয়েছে। কোথাও বাবা-মায়ের নামের বানান মেলেনি, কোথাও বয়স বা লিঙ্গ সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে আগের নথির অমিল, আবার কোথাও পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে সংযোগ ঠিকভাবে স্থাপন করা যায়নি। এই বিপুল সংখ্যক অসঙ্গতির কারণে রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন দফতরের সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুরুতে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লক্ষ নামকে সন্দেহজনক বা যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর সংখ্যাটি কিছুটা কমলেও এখনও ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। এই অসঙ্গতিগুলি ঠিক না হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়েছে এবং বহু মানুষ নিজের নাম ও তথ্য যাচাই করতে দফতরে যোগাযোগ করছেন।
এই পরিস্থিতিতে কাজ সহজ করতে ও শুনানির সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও অ্যাপে একাধিক নতুন সুবিধা যোগ করেছে। নতুন আপডেটে তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে ছোটখাটো বানানগত ভুল, মাঝের নাম সংযোজন বা ঠিকানার সামান্য অমিল সহজেই ঠিক করা যায়। পাশাপাশি পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে যোগসূত্র প্রমাণ করার জন্য সম্পর্কের নথি বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ অ্যাপে আপলোড করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নির্দেশ অনুযায়ী, প্রয়োজনে বিএলওদের আবারো ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে গিয়ে সরাসরি তথ্য যাচাই করতে হবে এবং যাচাই শেষে সংশোধিত তথ্য অ্যাপে আপলোড করতে হবে। প্রতিটি সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিএলওকে ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিয়ে ঘোষণা দিতে হচ্ছে যে তিনি নিজে তথ্য যাচাই করেছেন। এতে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা বাড়বে বলে দাবি নির্বাচন দফতরের, তেমনই বাড়তি দায়িত্ব ও চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএলওদের একাংশ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যে ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। মৃত্যু, স্থানান্তর, একাধিকবার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকা বা যোগ্যতা সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই এই বাদ পড়া বলে জানানো হয়েছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকে বিএলওদের কাছে ভোটারদের ফোন ও অভিযোগের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। অনেকেই জানাচ্ছেন, সামান্য বানান ভুল বা বয়সের গরমিলের জন্য ভবিষ্যতে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
