ওঙ্কার ডেস্ক : নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর একটি নির্মাণস্থলে খাদে গাড়ি পড়ে ২৭ বছর বয়সী এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুর পর, নয়ডা কর্তৃপক্ষের সিইও এম লোকেশকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার গভীর রাতে নয়ডার একটি খাদে ডুবে ২৭ বছর বয়সী ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতা খাদের গভীর জলে ডুবে মারা যান। ফরেন্সিক রিপোর্টে জানা যায়, ওই যুবকের মৃত্যু হয় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। এই ঘটনায় তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। মৃতের পরিবার কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে থানায় অভিযোগ করে। সোমবার সকালে কর্তৃপক্ষ একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করেছে এবং এলাকার ট্র্যাফিক-সম্পর্কিত কাজের জন্য দায়ী অন্যান্য কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে।
ঘন কুয়াশায় পথ দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ওই সফট ওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের। নাম যুবরাজ মেহতা, বয়স ২৭ বছর। শুক্রবার রাতে নয়ডার ১৫০ নম্বর সেক্টরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কুয়াশার মধ্যে তাঁর গাড়ি কিছু বুঝতে না পেরে দুটি ড্রেনেজের সংযোগস্থলে ধাক্কা দেয়। তারপর খাদে পড়ে যায়। জানা যায়, ৭০ ফুট নিচে গভীর জলে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয় ওই তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের।
মর্মান্তিক বিষয় হল- জলে তলিয়ে যেতে যেতে তিনি তাঁর বাবাকে ফোন করেন। সেই ফোনের কথা জানিয়েছেন মৃত যুবরাজের বাবা রাজকুমার মেহতা। দুর্ঘটনার সময় ছেলে তাকে ফোনে জানায়, “বাবা, আমি জলভরা গভীর গর্তে পড়ে গেছি। আমি ডুবে যাচ্ছি। দয়া করে এসে আমাকে বাঁচাও। আমি মরতে চাই না।”
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যায়। ঘন কুয়াশা এবং রাস্তায় রিফ্লেক্টরের অভাবে, তার গাড়ি দুটি সংলগ্ন ড্রেনেজ বেসিনকে ভাগ করা একটি উঁচু খাদের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ায় এই ভয়াবহ পরিণতি। সেসময় পাশ দিয়ে যাওয়া কিছু লোক মেহতার চিৎকার শুনে সাহায্য করার চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেনি। গাড়িটি সম্পূর্ণ ডুবে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্থানীয় পুলিশ, ডুবুরি এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারের কাজে নামে। রাজকুমারের বাবাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘন্টার চেষ্টায় খাদ থেকে ওই ইঞ্জিনিয়ারের দেহ এবং তাঁর গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর, মেহতার পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। তাঁদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ সার্ভিস রোডের ধারে রিফ্লেক্টর ও ঢাকনাযুক্ত ড্রেন না করায় তাদের এই বিপত্তি। ঘন কুয়াশার মধ্যে রাস্তায় রিফ্লেক্টরের অভাবের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে কর্তব্যের গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছে। নলেজ পার্ক থানার ইনচার্জ সর্বেশ কুমার জানিয়েছেন, তদন্তে কোনও অবহেলা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর কিছু স্থানীয় বাসিন্দা বিক্ষোভ সমাবেশ করে। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। তাদের মতে, তারা বারবার সার্ভিস রোডে রিফ্লেক্টর এবং সাইনবোর্ড স্থাপনের দাবি জানিয়েছিল, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনার পর নয়ডা কর্তৃপক্ষের তরফে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারা কয়েক টন আবর্জনা এবং ধ্বংসাবশেষ দিয়ে গভীর খাদটি ভরাট করে।
