স্পোর্টস রিপোর্টার : সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন। এই সময়ে তিনি ফিরে দেখছেন তাঁর ফেলে আসা দিনকে। এর মধ্য়েই ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার অজিঙ্ক রাহানে এমএস ধোনির শান্ত ও সহজ-সরল স্বভাবের কথা শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, ধোনি অত্যন্ত সাধারণ একজন মানুষ ছিলেন; সতীর্থরা যাতে তাঁর ঘরে এসে সময় কাটাতে পারেন, সেজন্য তিনি প্রায়ই দরজা খোলা রাখতেন, আবার দরজা বন্ধ থাকলে সেই গোপনীয়তা বা ব্যক্তিগত পরিসরটিও বজায় রাখতেন। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করা রাহানে ধোনির তিন ফর্ম্যাটেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন। এছাড়া ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) হয়ে খেলার সময়ও তিনি ধোনির সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নিয়েছেন।
‘এক সাক্ষাৎকারে রাহানে বলেন, ‘‘তিনি (এমএস ধোনি) অত্যন্ত শান্ত ও ধীরস্থির স্বভাবের এবং সবার মতোই একজন সাধারণ মানুষ। সবার জন্য তাঁর ঘরের দরজা প্রায় সবসময়ই খোলা থাকত। অনেক সময় আমরা ১০-১৫ জন বা এমনকি পুরো দলই তাঁর ঘরে থাকতাম। তবে দরজা বন্ধ থাকলে সেখানে কারও প্রবেশের অনুমতি ছিল না।’’এছাড়া বর্তমান ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর আর নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকরকে একহাত নিয়ে বললেন,’লম্বা ফরম্যাটে অভিজ্ঞতার কোনও বিকল্প নেই। সেখানে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সম্মান করতে হয়। সেটা না করে ভুল করেছেন গম্ভীর, আগরকরেরা। কয়েক দিন আগে হঠাৎ সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন রাহানে। তার পর একটি পডকাস্টে এসে তিনি বলেন, “আমার এখনও মনে হয় টেস্ট দলে ৭ থেকে ৮ জন সিনিয়র ক্রিকেটার থাকা উচিত। ২-৩ জন তরুণ ক্রিকেটার হলেই চলবে। কিন্তু গত কয়েক বছরে আমরা তার উল্টো ছবি দেখেছি। বেশির ভাগ ক্রিকেটারই তরুণ। সিনিয়র আর কে আছে? কিন্তু টেস্টে সেটাই দরকার।”
রাহানে আরও জানান যে, খেলার সিরিজের সময় মনোযোগ ধরে রাখতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকেন। ২০১৭ সালে আইপিএলে বেন স্টোকসের সঙ্গে খেলার সময় তাঁর পরামর্শেই তিনি এই অভ্যাসটি গড়ে তুলেছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যক্তিগত রুটিন মেনে চলা—যেমন বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখা, বই পড়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পরের দিনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া—তাঁকে মানসিকভাবে সতেজ থাকতে সাহায্য করে।

তিনি যোগ করেন, ‘‘সিরিজ চলাকালীন আমি সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ডিলিট করে দিই। কেউ আমাকে এমনটা করতে বলেনি, এটা একান্তই আমার নিজের সিদ্ধান্ত। আমার মনে আছে, ২০১৭ সালে আইপিএলে একসঙ্গে খেলার সময় বেন স্টোকস আমাকে সোশ্যাল মিডিয়া না দেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। নিজের জন্য একটি রুটিন তৈরি করা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য করেছে; ঘরে ফেরার পর নেটফ্লিক্স বা অন্য কোনও অ্যাপে কিছু দেখা, বই পড়া, পরিবারের সঙ্গে কথা বলা এবং পরের দিনের জন্য কাপড় ইস্ত্রি করার মতো কাজগুলো আমি করতাম।’’