ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির পথকুকুরদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছিল প্রবল বিতর্ক। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে সেই রায়কে আক্রমণ করা হয়, পথে নামে পশুপ্রেমীরা। অবশেষে নতুন রায়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আগের নির্দেশ সংশোধন করে জানিয়ে দিয়েছেন, দিল্লির রাস্তা থেকে কুকুরদের সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেওয়া যাবে না। বরং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে, অর্থাৎ টিকাকরণ এবং বন্ধ্যাত্বকরণের জন্য কুকুরদের তুলে নিয়ে গিয়ে পরে তাদের আবার নির্দিষ্ট জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
এই পরিবর্তিত রায়ের পর বিচারপতি নাথ নিজেও তৃপ্তি প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে মানুষ ও পশুর সহাবস্থান নিয়ে আয়োজিত এক কনফারেন্সে তিনি বলেন, “আইনের অদ্ভুত অদ্ভুত কাজের জন্য হয়তো আগে থেকেই আমার নাম ছিল। কিন্তু পথকুকুরেরা আমাকে শুধু এই দেশে নয়, বিশ্বের নাগরিক সমাজেও পরিচিতি দিয়েছে। এখন আমি শুধু মানুষ নই, কুকুরদেরও আশীর্বাদ পাচ্ছি। অনেকেই আমাকে সে কথাই জানাচ্ছেন।”
উল্লেখযোগ্য যে, গত ১১ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, দিল্লির রাস্তা থেকে সমস্ত পথকুকুরকে সরিয়ে আলাদা আশ্রয়কেন্দ্রে রাখতে হবে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পশুপ্রেমীরা। বিভিন্ন সংগঠন থেকে আন্দোলন শুরু হয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই আবহেই প্রধান বিচারপতি বিআর গগই মামলাটি অন্য বেঞ্চে পাঠান। পরে ২২ অগস্ট বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ নতুন রায় দেয়।
নতুন নির্দেশে বলা হয়, টিকাকরণ ও বন্ধ্যাত্বকরণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কুকুরদের আবার তাদের এলাকাতেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে ব্যতিক্রম থাকবে দু’টি ক্ষেত্র, যদি কুকুরটি র্যাবিসে আক্রান্ত হয় অথবা আগ্রাসী আচরণ করে, তাহলে তাকে আর ফেরানো হবে না। একই সঙ্গে বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, রাস্তায় কুকুরদের খাওয়ানো যাবে না, কারণ তাতে জননিরাপত্তার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিচারপতি নাথের বক্তব্যের পর থেকে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাঁর মতে, এই রায় শুধু পশুপ্রেমীদের জন্য নয়, গোটা সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তিনি দেশের প্রধান বিচারপতির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যিনি এই মামলাটি তাঁর বেঞ্চে স্থানান্তর করেছিলেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় মূলত একটি মধ্যপন্থী সমাধান। যেখানে একদিকে পথকুকুরদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হচ্ছে না, অন্যদিকে জননিরাপত্তার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। তবে পশুপ্রেমীদের মতে, কুকুরদের খাওয়ানোয় নিষেধাজ্ঞা অমানবিক এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে নতুন করে আন্দোলন দেখা দিতে পারে।
শীর্ষ আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার সঙ্গে যুক্ত থেকে বিচারপতি নাথ আইন অঙ্গনে এক নতুন পরিচিতি পেয়েছেন। জানা গিয়েছে, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হওয়ার সম্ভাব্য উত্তরসূরি। ফলে পথকুকুরদের নিয়ে তাঁর এই রায় এবং মন্তব্য আগামী দিনে আরও আলোচনার জন্ম দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
