ওঙ্কার ডেস্ক: ২০৩১ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি হতে চলেছেন বাঙালি বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। দীর্ঘ সময় ধরে কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। চলতি বছরের মার্চ মাসে তাঁর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি। সেই মর্মে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকও বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে দুইজন বাঙালি বিচারপতি আছেন, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। সব কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মাফিক এগোলে ২০৩১ সালের ২৬ মে দেশের প্রধান বিচারপতির পদ অলঙ্কৃত করবেন বিচারপতি বাগচী। তবে তাঁর মেয়াদ খুব দীর্ঘ নয়, ওই বছরেরই ২ অক্টোবর অবসর নেবেন তিনি। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ মাস দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকবেন তিনি।
সাধারণত দেশের বিভিন্ন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিদের মধ্য থেকেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নির্বাচন করা হয়। কিন্তু বিচারপতি বাগচীর ক্ষেত্রে এই প্রথা ভাঙা হয়েছে। তিনি কখনও হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলাননি। তবুও তাঁর মেধা, সততা, কাজের দক্ষতা এবং সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে বিবেচনা করেই সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম তাঁর নাম সুপারিশ করে। বিচারপতি বাগচী ২০১১ সালের ২৭ জুন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। সেখানে টানা প্রায় ১০ বছর দায়িত্ব পালন করার পর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্টে বদলি করা হয়। ওই বছরই নভেম্বর মাসে তিনি আবার কলকাতা হাই কোর্টে ফিরে আসেন। বিচারপতি হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই ১৩ বছরেরও বেশি। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বিচারপতির পদে নিয়ে গেছে।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন বিচারপতি বি আর গবই। তাঁর মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের নভেম্বরে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের প্রধান বিচারপতি হওয়ার কথা রয়েছে বিচারপতি সূর্য কান্ত, যিনি ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই পদে থাকবেন। এরপর দায়িত্ব নেবেন বিচারপতি বিক্রম নাথ, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন ২০২৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হবেন। এর পর বিচারপতি পিএস নরসিংহ ২০২৭ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের ২ মে পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ২০২৮ সালের ৩ মে থেকে ২০৩০ সালের ১১ অগস্ট পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি থাকবেন। এরপর ২০৩০ সালের ১২ অগস্ট থেকে ২০৩১ সালের ২৫ মে পর্যন্ত ওই পদে থাকবেন বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন। তাঁর পরেই আসবেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, যিনি ২০৩১ সালের ২৬ মে থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের প্রধান বিচারপতি হবেন। এরপর দায়িত্ব নেবেন বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলি, যিনি ২০৩১ সালের ৩ অক্টোবর থেকে ২০৩৩ সালের ২৭ মে পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকবেন।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের কলেজিয়ামের সুপারিশে বম্বে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি অলোক আরাধে এবং পটনা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলিকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। যদিও বিচারপতি পাঞ্চোলির নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন কলেজিয়ামের অন্যতম সদস্য বিচারপতি বিভি নাগরত্ন। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় অনৈতিকতার অভিযোগ উঠেছিল, যদিও অভ্যন্তরীণ তদন্তে তা খারিজ হয়ে যায়। এই অতীতের প্রসঙ্গেই বিচারপতি নাগরত্ন তাঁর নিয়োগে আপত্তি জানান। কিন্তু প্রধান বিচারপতি গবই এবং বাকিদের সম্মতি থাকায় শেষ পর্যন্ত তাঁর নামও অনুমোদিত হয়।
আগামী দশকেরও বেশি সময় ধরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিদের তালিকা কার্যত নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। সেই তালিকায় ২০৩১ সালে বাঙালি বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নাম যুক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে বাংলার জন্য গর্বের বিষয়।
