অর্ণব দত্ত
একসময়ে চম্বল ছিল ভয়ানক, রক্ত হিম করা ডাকাতদের আস্তানা। চম্বলের বেহড়গুলিতে ডাকাতরা আস্তানা বানাত। সেই চম্বলে ডাকাতের উপদ্রব বন্ধ হলেও নতুন এক অপরাধ দেখা দিয়েছে। তা হল বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। এর বাইরে অপরাধীরা চম্বল সংলগ্ন হাইওয়েতে তোলাবাজি এবং ব্যাপক জুলুম চালাচ্ছে বলে খবর।
মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং উত্তরপ্রদেশের সীমান্ত এলাকাজুড়ে চম্বলের বিস্তার। সূত্রের খবর, চম্বলের কুখ্যাত ডাকাতদলের অস্তিত্ব লুপ্ত হলেও গত কয়েক বছর ধরে আগ্রা-মুম্বই ন্যাশনাল হাইওয়ে (এনএইচ-৪৪) এখন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হলেও তাতে কাজই হচ্ছে না।
বর্তমানে চম্বলে যে বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য চলছে, এব্যাপারে দেশের শীর্ষ আদালতের অভিমত, বালি খাদানগুলি এখন সশস্ত্র মাফিয়া সিন্ডিকে!টগুলির দখলে। সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, “এই মাফিয়া সিন্ডিকেটগুলো চম্বলের আধুনিক ডাকাত দল। বনকর্মীরা লাগাতারভাবে মাফিয়াদের সশস্ত্র আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।“
সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে জানিয়েছে, যদি মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং উত্তরপ্রদেশ সরকার বালি মাফিয়াদের অপরাধমূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করতে অসমর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আধা সামরিক বাহিনী নামিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হোক। বালি খাদান এলাকাগুলিতে তিন রাজ্যে্র সরকার নজরদারি বৃদ্ধি করুক। বসানো হোক পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরাও।
২০২৬ সালেই সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থান সরকারকে সতর্ক করেছে, বালি মাফিয়া সিন্ডিকেট সামলাতে না পারলে তিন রাজ্যের সরকার আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করুক। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে মধ্যপ্রদেশ সরকার স্পেশাল আর্মড ফোর্স মোতায়েন করলেও বাকি দুই রাজ্যের সরকার এখনও এব্যাপারে গা করেনি।
চলতি বছরেও বালি মাফিয়া সিন্ডিকেটের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন মধ্যপ্রদেশের বালি খাদান এলাকার অন্তর্গত একাধিক বনকর্মী। এবাদে বালিখাদান থেকে মাফিয়ারা বেপরোয়াভাবে বালি তোলায় পরিবেশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। পরিবেশবিদদের দাবি, ১৯৭২ সালে এদেশে চালু বন্যপ্রাণী প্রোটেকশন অ্যাক্ট অবিলম্বে সক্রিয় করা হোক। সর্বভারতীয় বিকল্প ধারার সংবাদ মাধ্যমে অবিরাম লেখালেথি চলছে, চম্বলের ন্যাশনাল চম্বল ঘড়িয়াল অভয়ারণ্যের বাসিন্দা বন্যপ্রাণীদের জীবনও ব্যাপক ক্ষতির মুখে বালি মাফিয়াদের সিন্ডিকেটগুলির দৌরাত্ম্যের ফলে।
২০২৬ সালেই সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থান সরকারকে সতর্ক করেছে. বালি মাফিয়া সিন্ডিকেট সামলাতে না পারলে তিন রাজ্যের সরকার আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করুক। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে মধ্যপ্রদেশ সরকার স্পেশাল আর্মড ফোর্স মোতায়েন করলেও বাকি দুই রাজ্যের সরকার এব্যাপারে এখনও গা করেনি। চলতি মাসে সুপ্রিম কোর্ট ফের বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, চম্বল নদী থেকে নির্বিচারে যেভাবে বালি তুলছে সশস্ত্র বালি মাফিয়াদের সিন্ডিকেটগুলি, তাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চম্বল নদী। এই ক্ষতি কোনওভাবে পূরণ করা যাবে না।
সূত্রের খবর, কেবল চম্বল নদীই নয়, দেশের অন্যত্রও বালি মাফিয়া্রা সক্রিয়। উল্লেখ্য, চম্বল নদীটি বয়ে গিয়েছে চম্বলের অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়ে। সুপ্রিম কোর্ট দেশব্যাপী নদী থেকে বালি চুরি প্রসঙ্গে যে পর্যবেক্ষণ করেছে, তাতে সেন্ট্রাল এমপাওয়ার্ড কমিটিকে নির্দেশিকা জারি করে্ বলেছে, বেআইনিভাবে নির্বিচারে যেভাবে বালি তোলা হচ্ছে, সেসম্পর্কে সেন্ট্রাল এমপাওয়ার্ড কমিটি যেন সুপ্রিম কোর্টকে রিপোর্ট পেশ করে্।
সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, চম্বলে বালি মাফিয়াদের অতিসক্রিয়তা ঠেকাতে শীর্ষ আদালত একাধিকবার নির্দেশ দিলেও নির্বিচারে বালি তোলা অব্যাহতই। সংগঠিত চক্র এই বেআইনি কাজ করলেও সমস্যা প্রতিহত করতে রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশ সরকার ব্যর্থ বলে দুই রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
এখন দেখার সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং সন্দীপ মেহতা নতুন করে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করার পর কাজ হয় কিনা। প্রসঙ্গত, ২০১৮ এবং ২০২১ সালে নদী থেকে বালি চুরির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল রাজস্থান সরকার। এরপর ফের চুরি চলছে অবাধেই।