নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: বন্ধ দরজা টপকে যন্তর মন্তরে ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়ে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা-সহ ১৪ জন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না আইনজীবীদের, এমনকি ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে সিজেপি।
মঙ্গলবার সকালে বন্ধ যন্তর মন্তরের গেট টপকে ভিতরে ঢুকে পড়েন সৌরভ ও আশুতোষ। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন সমর্থক। ভিতরে ঢুকে তাঁরা জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন। এরপরই পুলিশ তাঁদের আটক করে। পুলিশ সূত্রে খবর, আইন ভাঙার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হতে পারে।
আটকের পরেই সিজেপির আইনি উপদেষ্টা রত্না সিংহ এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে অভিযোগ করেন, জাফরপুর কালান থানায় আটক সৌরভদের সঙ্গে আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। থানার এসএইচও সেই অনুমতি দেননি। আটকদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কোন আইনে তাঁদের আটক করা হয়েছে এবং কেন আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রত্না। বিষয়টিকে তিনি ‘উদ্বেগজনক’ বলেও উল্লেখ করেন।
সিজেপির আরেক আইনি প্রতিনিধি পুষ্প শর্মা জানান, আটক হওয়ার পরেও প্রথমে ফোনে সৌরভের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, “শেষবার যখন কথা হয়, সৌরভ জানায় ওর ফোন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তার পর থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাইনি। এসএইচওকে বারবার অনুরোধ করেছি আটকদের সঙ্গে দেখা করার জন্য। আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার অধিকার ওদের রয়েছে সেটাও জানিয়েছি। কিন্তু আমাকে বলা হয়েছে ওরা সুরক্ষিত জায়গায় আছে। কিছু আলোচনা থাকলে ফোনে করতে পারি।”
প্রসঙ্গত, সোমবারই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। যন্তর মন্তরের বদলে প্রতিবাদের জন্য তিনটি নতুন জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে — রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি। এই নির্দেশিকা রবিবার জারি হলেও প্রকাশ্যে আসে সোমবার।
উল্লেখ্য, ভোটে কারচুপি, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তার আগেই দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়, ২৪০টি ট্রেন বাতিল এবং ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। সোমবারই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়েছিলেন সৌরভরা। অনুমতি না মেলায় ফের কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল দল। তার মধ্যেই যন্তর মন্তর নিষিদ্ধ হওয়ায় সিজেপি প্রধান অভিজীৎ দিপ সমাজমাধ্যমে লেখেন, “যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ করতে দেবে না ওরা। ভিতু একনায়কের কারণে তা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এখন পুরো দেশ যন্তর মন্তর হবে।” তার পরদিনই আটক হলেন সৌরভ ও আশুতোষ।