ওঙ্কার ডেস্ক: মুল্লানপুরে দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হোঁচট খেল ভারত। সিরিজে এগিয়ে থাকার বাড়তি চাপ নিয়ে মাঠে নামলেও ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই ছন্দহীন পারফরম্যান্সে বড় ব্যবধানে হার মানতে হল রোহিত শর্মাদের। প্রথম ম্যাচের জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ভারতীয় শিবির এই ম্যাচে ছন্দই খুঁজে পেল না। শুরুতে শক্ত ভিত গড়ার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় পুরো ইনিংস জুড়েই দল চাপে থাকে।
এদিন ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নামার পরে ভারতীয় ওপেনাররা সাবধানী সূচনা করলেও বেশিক্ষণ উইকেট টিকিয়ে রাখতে পারেননি। দ্রুত পরপর উইকেট পড়তে থাকায় ব্যাটিং লাইন-আপ চাপে পড়ে যায়। মধ্যক্রমের ব্যাটসম্যানরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন। বড় শট নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে কেউই তাল খুঁজে পাননি। ফলে ইনিংস এগোতেই থাকে জটিলতার দিকে। নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগেই ভারতীয় দল অলআউট হয়ে পড়ে, আর স্কোরবোর্ডে কোনো লড়াইযোগ্য রান তুলতে ব্যর্থ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন। ধারাবাহিক শর্ট-অফ-লেংথ এবং সঠিক লাইন-লেংথে বোলিং করে তাঁরা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দমিয়ে রাখেন। পরে স্পিনাররা মাঠে নেমে রানের গতি প্রায় থামিয়েই দেন। ফলে স্বল্প রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামার আগে থেকেই প্রোটিয়া শিবিরে স্বস্তির বাতাস।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনাররা দৃঢ় মানসিকতা নিয়ে শুরু করেন। শুরু থেকেই স্ট্রাইক রোটেট করে, মাঝে মাঝে বাউন্ডারি তুলে নিয়ে তাঁরা সহজেই চাপমুক্ত ইনিংস গড়ে তুলতে থাকেন। ভারতীয় বোলাররা উইকেট তোলার জন্য নানা কৌশল প্রয়োগ করলেও ফল মেলেনি। পেসারদের কেউ কেউ গতি বাড়িয়ে, কেউ বা সুইং করিয়ে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যাটাররা প্রতিটি ভুল বলেরই যথাযথ শাস্তি দেন। স্পিনারদের বিরুদ্ধেও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। টার্ন বা বাউন্স থাকলেও তাঁরা সেটাই মোকাবিলা করার মতো প্রস্তুত ছিলেন। ফলে মাঝেমধ্যে উইকেট পড়লেও ম্যাচের পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকে এবং জয়ের পথ ক্রমশ সহজ হতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত বিনা চাপে লক্ষ্য টপকে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের লড়াই করার সুযোগই তৈরি হয়নি। ম্যাচ শেষে স্পষ্ট হয়ে যায়, ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট বাছাই এবং বোলারদের ধারহীনতা ম্যাচ থেকে দলকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে দলকে আগামী ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সিরিজে সমতা ফিরেছে এবং বাকি ম্যাচগুলো এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতের প্রস্তুতির দিক দিয়েও এই পরাজয় ভারতকে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল।
