ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের একবার ‘ব্রিক্স’ জোটের দেশগুলির উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিলেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘ব্রিক্স’ জোট আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থী, তাই এই জোটের সদস্য দেশগুলিকে শুল্ক গুনতেই হবে। তাঁর অভিযোগ, ডলারকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই এই জোট তৈরি হয়েছে এবং এর মাধ্যমে আমেরিকার আর্থিক ক্ষতি করার চেষ্টা চলছে, যা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ট্রাম্পের বক্তব্যে কার্যত হুঁশিয়ারি স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘‘যদি ওরা (ব্রিক্স) খেলা খেলতে চায়, আমিও খেলতে প্রস্তুত। কেউ যদি ডলারকে চ্যালেঞ্জ করে, তবে তার জন্য তাদের দাম চোকাতে হবে।’’ উল্লেখযোগ্য, ব্রিক্স জোটের প্রাথমিক সদস্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত, চিন, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে এই তালিকায় যোগ হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইরান, ইথিওপিয়া, মিশর ও ইন্দোনেশিয়া।
সম্প্রতি ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে ব্রিক্স সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। সেই সম্মেলনের শেষে প্রকাশিত ৩১ পাতার যৌথ বিবৃতিতে শুল্ক বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করা হয়। যদিও আমেরিকা বা ট্রাম্পের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবে হুঁশিয়ারির বার্তা যে ট্রাম্পের উদ্দেশেই, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
ট্রাম্পের এই নতুন শুল্ক হুমকির ফলে ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে এখনও সেই চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আগেই জানিয়ে দিয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি হবে না, তাদের আগামী ১ অগস্ট থেকে নতুন শুল্ক দিতে হবে। ইতিমধ্যেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া-সহ ১২টি দেশের কাছে শুল্ক সংক্রান্ত চিঠি পৌঁছে গিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যে ভারতের সামনে বড় প্রশ্ন এই বাড়তি শুল্ক এড়ানো সম্ভব হবে কি না। ২০১৯-এ প্রথমবার ট্রাম্প প্রশাসন ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর শুল্ক চাপিয়েছিল। ভারতের ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছিল, যা পরে তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে এই ৯ জুলাই। ফলে বাণিজ্য চুক্তি সম্পূর্ণ না হলে ভারতের উপরও নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার এই শুল্ক নীতি ভারতের বাণিজ্যের উপর চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ব্রিক্স জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত কতটা কূটনৈতিকভাবে ব্যালান্স করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
