ওঙ্কার ডেস্ক : গালওয়ান সংঘর্ষের জেরে চিনের বহু ওয়েব অ্যাকসেসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারত। তার মধ্যে ছিল TikTok –ও। ফলে সেই ২০২০ সাল থেকে এই ওয়েবসাইটের গ্রহীতারা তাতে ভিডিও ও আর্টিকেল আপলোড করতে পারছিলেন না। চীন-ভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্মটির অ্যাপটি অ্যাপ স্টোরগুলিতেও মিলছিল না। টেলিকম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীরা ওয়েবসাইটটি ব্লক করে চলেছে। তাই কিছু কিছু গ্রহীতা কীভাবে এটি অ্যাক্সেস করতে পারছিল তা স্পষ্ট নয়। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি দেখা দেয়। অথচ অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম AliExpress ব্যবহারকারীদের জন্যও কাজ করছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায়ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ভারতে TikTok এখনও ব্লক রয়েছে। এই বিভ্রান্তি শুরু হয় যখন বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী রিপোর্ট করে যে তারা ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ওয়েবসাইটটি অ্যাক্সেস করতে পারছেন। অথচ ভারত সরকার এখনও এটিকে আনব্লক করার নির্দেশ জারি করেনি। এদিন সরাকারি ভাবে ফের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই ধরণের কোনও বিবৃতি বা খবর মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর।
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভয়াবহ সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের মধ্যে যে বিরোধ দেখা দিয়েছিল বর্তমান পরিস্থিতিতে তা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে দু দেশের মধ্যে। এই সপ্তাহের শুরুতে, দু দেশের “স্থিতিশীল, সহযোগিতামূলক এবং দূরদর্শী” সম্পর্কের জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সীমান্তে যৌথভাবে শান্তি বজায় রাখা, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা, বিনিয়োগ প্রবাহকে উৎসাহিত করা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু করা।
চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীন সফর করবেন।
২০২০ সালের ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে সংঘর্ষের পর সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ৫৯টি অ্যাপের মধ্যে টিকটক এবং আলিএক্সপ্রেস ছিল। সরকারি সূত্রগুলি তখন বলেছিল যে ব্লক করা অ্যাপগুলি ব্যবহারের শর্তাবলী ভেঙেছে, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার সঙ্গে আপস করেছে এবং স্পাইওয়্যার বা ম্যালওয়্যার হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ফলে TikTok সহ চিন ভিত্তিক বহু ওয়েবসাইট এ দেশে নিষিদ্ধ হয়।
