ওঙ্কার ডেস্কঃ বঙ্গে ভোটের দামামা বেজেছে। অপেক্ষা দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার। তার আগে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুরু হয়েছে বৈঠক। সেই বৈঠকে এক দফায় ভোটের দাবি জানাল সিপিএম। একই দাবি জানিয়েছে বিজেপিও। অন্যদিকে একজন বৈধ ভোটারেরও যাতে নাম বাদ না যায়, সেই দাবি জানিয়েছে তৃণমূল। অন্যদিকে বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কোনও কথা না শুনে শুধু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শুধু চিৎকার করে গিয়েছেন বলেই দাবি তাঁর।
সোমবার বৈঠকের শুরুতেই বিজেপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বিজেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন তাপস রায়, শিশির বাজোরিয়া, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ বৈঠক শেষে শিশির বাজোরিয়া সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ”রাজ্য পুলিশের ভূমিকায় আমরা অসন্তুষ্ট। এই অবস্থায় প্রতি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় যাতে ভোট হয় সেই দাবি জানানো হয়েছে।” নির্বাচন যাতে খুব বেশি দফায় না করা হয় সেই দাবি করেছে বিজেপির প্রতিনিধি দল। বঙ্গ বিজেপির তরফে কমিশনকে জানানো হয়েছে ৭-৮ দফার পরিবর্তে সর্বাধিক ১ বা ২ দফায় নির্বাচন করা হোক। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপি নেতা। অন্যদিকে সেলিমের নেতৃত্বে কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন বাম প্রতিনিধি দল। বৈঠকে বাংলায় একদফায় ভোটের দাবি জানান মহম্মদ সেলিম।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের তিন প্রতিনিধি দল। কোনও বৈধ ভোটার যাতে বাদ না পড়ে তা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে বলে জ্ঞানেশ কুমারকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ফর্ম ৬ এবং ফর্ম ৭-এ তথ্য বিভ্রাট নিয়েও সরব হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। সোমবার নিউটাউনে কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম ও রাজীব কুমার। ওই বৈঠক সেরে বেরিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন চন্দ্রিমা। তিনি জানান, কোনও কথা না শুনে শুধু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শুধু চিৎকার করে গিয়েছেন। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমার আরও জানান, “আমাদের কথা শুনতে রাজি নন। খালি বলছেন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। বেশ করেছি গিয়েছি। আমার অধিকার, বাংলার মানুষকে ঠিক রাখার অধিকারে গিয়েছি।”
