গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা লরিতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মৃত্যু হল তৃণমূল নেতা সুশান্ত দাস ওরফে কিরণের। তিনি দক্ষিণ রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ও অঞ্চল সভাপতি এবং দক্ষিণ রায়পুর সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পুজোর আবহেই গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে পুজোমণ্ডপ থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন সুশান্ত। গন্তব্য ছিল দক্ষিণ রায়পুরের কাওরাখালিতে নিজের বাড়ি। অভিযোগ, তাঁর মাথায় হেলমেট ছিল না। ফেরিঘাট ব্রিজ সংলগ্ন ঢালের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরিতে সজোরে ধাক্কা মারেন তিনি। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের দোকানদাররা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে গদামথুরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপে পাঠানো হয়েছে।
সুশান্তর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী, মা এবং তিন কন্যা। বড় মেয়ে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে, যমজ দুই মেয়ের বয়স মাত্র ছয় বছর। পরিবারের একমাত্র অভিভাবককে হারিয়ে শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর সময় রাতভর ঠাকুর দেখা, মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় এবং দ্রুত বাড়ি ফেরার তাড়া— সব মিলিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার হেলমেট পরা, গতির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং রাস্তার ধারে বেআইনিভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে না রাখার আবেদন করা হলেও, অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় রাতে আলো-আঁধারিতে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা লরি বা ট্রাক চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, উৎসবের আনন্দের মধ্যেও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস চলবে না। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও আরও সচেতন হতে হবে।