ওঙ্কার ডেস্ক: বার্ধক্যে পৌঁছে পছন্দের পুরুষের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন। তাই তাঁকে বিয়ে করার জন্য মার্কিন মুলুক থেকে চলে এসেছিলেন ভারতের পাঞ্জাবে। কিন্তু এ দেশে আসার পরে সেই সঙ্গী ওই মহিলাকে লোক দিয়ে খুন করে দিয়েছে, এমনটাই অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মহিলার নাম রুপিন্দর কৌর পান্ধের। বয়স ৭১ বছর। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। ইংল্যান্ড-ভিত্তিক অনাবাসী ভারতীয় ৭৫ বছর বয়সী চরণজিৎ সিং গ্রেওয়ালের আমন্ত্রণে ভারতে এসেছিলেন রুপিন্দর। গ্রেওয়াল মূলত লুধিয়ানার বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছিলেন মার্কিন মহিলা।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত জুলাই মাসে এই ঘটনা ঘটেছে।রুপিন্দর নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ দায়ের হয় পুলিশের কাছে। লুধিয়ানা পুলিশ দায়ের হওয়া এফআইআরে সন্দেহভাজনদের নাম উল্লেখ করার পর গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে সম্প্রতি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেওয়ালই রুপিন্দরকে লোক দিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত ২৪ জুলাই রুপিন্দরের বোন কমল কৌর খাইরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সন্দেহ হয়। ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে খাইরা নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসকে বিষয়টি জানান। পরে দূতাবাসের তরফে স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে চাপ দেওয়া হয়।
গত সপ্তাহেই খাইরা পরিবার রুপিন্দরের মৃত্যু সংবাদ পায়। মার্কিন নাগরিককে হত্যার তদন্তে নেমে পুলিশ মালহা পট্টির সুখজিৎ সিং সোনু নামে এক জনকে গ্রেফতার করেছে। জেরায় সোনু রুপিন্দরকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। শুধু তাই নয় স্টোররুমে মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে সে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেওয়ালের নির্দেশে সোনু এই গোটা কাজটা করেছিল। রুপিন্দরকে হত্যা করলে তাকে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন গ্রেওয়াল। তদন্তকারীদের অনুমান আর্থিক কারণেই এই খুন। রুপিন্দর ভারতে আসার আগে গ্রেওয়ালকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছিলেন। লুধিয়ানা পুলিশ রেঞ্জ এর ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল সতীন্দর সিং জানিয়েছেন, পলাতক গ্রেওয়ালকে এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধৃত সোনুর বয়ানের ভিত্তিতে নিহতের কঙ্কালের দেহাবশেষ এবং অন্যান্য প্রমাণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
