ওঙ্কার ডেস্ক : আমেরিকায় দুই ন্যাশনাল গার্ডের উপর আফগান নাগরিকের গুলি চালনার ঘটনার পর কঠোর সিদ্ধান্ত নিল হোয়াইট হাউস। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, “তৃতীয় বিশ্বের সব দেশের দরজা বন্ধ আমেরিকায়।” দেশের নিরাপত্তার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। আমেরিকার এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব জুড়ে এর প্রভাব লক্ষ্যনীয়। মূলত চাকরি, শিক্ষা এবং নিজের দেশে নিপীড়নের থেকে বাঁচতে যাঁরা এতদিন আমেরিকায় পাড়ি দিতেন তাঁদের উপর বিশাল প্রভাব পড়লো। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথে একটি পোস্ট শেয়ার করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে গেলেও তার অভিবাসন নীতি আমেরিকার জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।”
তিনি আরও বলেছেন, “আমি মার্কিন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধারের অনুমতি দেওয়ার জন্য সমস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব, স্লিপি জো বাইডেনের অটোপেন স্বাক্ষরিত লক্ষ লক্ষ অবৈধ প্রবেশাধিকার বাতিল করব। এবং যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেট সম্পদ নন, অথবা আমাদের দেশকে ভালোবাসতে অক্ষম তাদের অপসারণ করব, আমাদের দেশের অনাগরিকদের জন্য সমস্ত ফেডারেল সুবিধা এবং ভর্তুকি বন্ধ করব, অভ্যন্তরীণ শান্তি নষ্টকারী অভিবাসীদের উৎখাত করব এবং যে কোনও বিদেশী নাগরিককে নির্বাসিত করব যারা পাবলিক চার্জ, নিরাপত্তা ঝুঁকি, বা পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই লক্ষ্যগুলি অনুসরণ করা হবে অবৈধ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী জনসংখ্যা কমিয়ে। যার মধ্যে অন্যতম অবৈধ অটোপেন অনুমোদন প্রক্রিয়া, শুধুমাত্র এর বিপরীত অভিবাসনই এই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ নিরাময় করতে পারে।”
হোয়াইট হাউস থেকে কয়েক ব্লক দূরে একটি মর্মান্তিক গুলিবর্ষণের ঘটনার পর ট্রাম্পের অভিবাসন বিস্ফোরণ ঘটে। একজন বন্দুকধারী দুই ন্যাশনাল গার্ড ট্রুপার সারাহ বেকস্ট্রম এবং অ্যান্ড্রু উলফের কাছে গিয়ে গুলি চালায়। তাঁদের মধ্যে বেকস্ট্রমের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ট্রাম্প তাঁর ট্রুথে জানিয়েছেন, ” আমরা যে রক্ষীদের কথা বলছি তাদের মধ্যে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার সারা বেকস্ট্রম, অত্যন্ত সম্মানিত, তরুণী, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব… তিনি সবেমাত্র মারা গেছেন। তিনি আর আমাদের মধ্যে নেই।” ২৪ বছর বয়সী উলফের অবস্থা এখনও গুরুতর। আফগানিস্তানের ২৯ বছর বয়সী রহমানউল্লাহ লাকানওয়াল, যিনি ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছিলেন, তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও গুলি চালানোর পিছনের উদ্দেশ্য জানা যায়নি।
