ওঙ্কার ডেস্ক : পাকিস্তানকে আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে তিনটি বিশেষ পরামর্শ দিল আমেরিকা। ফি বছর বিভিন্ন দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি রিভিউ প্রকাশ করে থাকে আমেরিকার বিদেশ দফতর। ২০২৫-এর এই রিপোর্টে পাকিস্তানের উল্লেখ রয়েছে। যেখানে স্পষ্ট ভাবে তিনটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এক, পাকিস্তান সরকারকে তাদের প্রস্তাবিত বাজেটের কথা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশের নাগরিকদের জানাতে হবে।
দুই, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান-সহ পাকিস্তান সরকারের কোথায় কত টাকা ঋণ আছে, তার পুরো তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
তিন, প্রতিরক্ষা, সামরিক খাত এবং গোয়েন্দা খাতে পাক সরকারের বাজেট দেশবাসীর নজরে থাকা উচিত।
বিভিন্ন দেশের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার পর্যালোচনা করে প্রতি বছর আমেরিকার বিদেশ দফতর যে রিপোর্ট প্রকাশ করে তাতে এবার পাকিস্তান ছাড়া আরও ৬৮টি দেশের সম্পর্কে এই ধরনের পরামর্শ রয়েছে। গত শুক্রবারই এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। প্রতি দেশের জন্য পৃথক পৃথক পরামর্শ রয়েছে ওই রিপোর্টে। সারা বছর ধরে কোন দেশ কী ভাবে বাজেট নিয়ন্ত্রণ করেছে, কোন খাতে কত খরচ হয়েছে, জনসাধারণকে সে বিষয়ে কতটা অবগত রাখা হয়েছে, তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে মার্কিন বিদেশ দফতর এই রিপোর্ট তৈরি করে। সেই সঙ্গে আর্থিক স্বচ্ছতার উন্নতি কী ভাবে করা যাবে সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।
এই রিপোর্ট এমন এক সময় প্রকাশ পেল যখন সৌদি আরবের সঙ্গে ‘কৌশলগত এবং পারস্পরিক’ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করল পাকিস্তান। যার শর্ত অনুযায়ী কোনও একটি দেশ যদি অন্য কোনও দেশের আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে তা উভয় দেশের উপরেই আঘাত হিসাবে দেখা হবে এবং সেই অনুযায়ী উভয় দেশ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। পাক প্রতিরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে একে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। ঠিক এমন এক সময় পাকিস্তান যে তাদের সামরিক খাতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ করে, তা জনসাধরণের গোচরে আনার পরামর্শ দিল আমেরিকা। সেই সঙ্গে কোথায় কত ঋণ আছে সরকারের, সামরিক খাতে কত ব্যয় করা হচ্ছে, জনগণকে সেই সংক্রান্ত তথ্য বিস্তারিত ভাবে জানাতে বলা হয়েছে। এতে কি পাকিস্তানের অস্বস্তি বাড়ল ? এ বিষয়ে অবশ্য এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসলামাবাদ।
