ওঙ্কার ডেস্কঃ রবি ঠাকুরের শীতের হাওয়ার নাচন আমলকীর ডালে ডালে লেগেছে কিনা জানা নেই, কারণ ইট, কাঠ, পাথরের কলকাতায় আমলকী গাছ মেলা ভার, তবে শীতবিলাসী কলকাতাবাসী তথা, দক্ষিণবঙ্গবাসীর মনে শীতের হাওয়ার নাচন যে লেগেছে তা বলাই বাহুল্য। কারণ শনিবার ভোর থেকেই তাপমাত্রার পারদ নিম্নমুখী দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায়।
সকালবেলা হাতে এক কাপ চা বা কফি নিয়ে ঘরের জানলাটা খুললেই বা খোলা বারান্দায় দাঁড়ালেই কেমন যেন হালকা মিঠে শীতের হাওয়ায় মনটা এক নিমেষে ফুরফুরে হয়ে যেতে বাধ্য।
এই সময়টায় শীতবিলাসী হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যরসিক মানুষদের মনটা অবশ্যই চাইবে খেজুরের গুঁড়, কিংবা এক গ্লাস খেজুরের রস। বাজারের থলেটা হাতে নিয়ে বাজারে গেলে তো আরও ভালো হয়ে যাবে মনটা । কারণ এইকালটায় সবুজ টাটকা সবজিতে ভরে থাকে গোটা বাজার। কোনটা ছেড়ে কোনটা নি, এই ভেবেই বেশকিছুটা সময় কেটে যায় খাদ্যরসিকদের।
সঙ্গে হুজুগে মানুষদের চলবে বনভোজনের প্ল্যানিং। ঘুরতে যাওয়ার জন্যও কিন্তু শীতকালের মত আদর্শকাল আর দ্বিতীয়টি নেই।
এবারে আসা যাক আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে। দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৩ থেকে ৪ দিনে অন্তত ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমতে পারে। তবে পরবর্তী কয়েক দিন তাপমাত্রার তেমন পরিবর্তন হবে না। চলতি সপ্তাহে রাত ও ভোরে থাকবে শীতের মিষ্টি আমেজ। রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা মরশুমের অন্যতম সর্বনিম্ন। আগামী দু’দিনে তাপমাত্রা আরও কিছুটা নামতে পারে বলেই ইঙ্গিত।
উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই সকালে হালকা কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব আরও বাড়তে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার — সব জেলাতেই সকালবেলায় কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনে এখানকার তাপমাত্রাও ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। আপাতত রাজ্যজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই আগামী কয়েক দিনে।
তবে আর কি ! শীতের হাতে গোণা এই কটাদিন লুটেপুটে নিন শীতবিলাসীরা। কারণ কখন আবার গুরু গুরু করে ঘন মেঘ গর্জে ওঠে তা কে জানে ! আর ভালো জিনিসও কিন্তু বেশীদিন স্থায়ী হয় না !
