ওঙ্কার ডেস্ক: অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সমুদ্রের উপর তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত থেকে নিম্নচাপ গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে সেটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হতে পারে। সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে ওড়িশা উপকূলে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, থাইল্যান্ড উপসাগর ও সংলগ্ন মায়ানমার অঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তটি ২১ অক্টোবর রাতে উত্তর আন্দামান সাগরে প্রবেশ করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। ২৩ অক্টোবরের মধ্যেই দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন মধ্য-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৪ বা ২৫ অক্টোবর আন্দামান অঞ্চলে নিম্নচাপটি তৈরি হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার পর দ্রুত শক্তি বাড়াতে পারে এই সিস্টেম। ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে সেটি।
তবে ভারতের আবহাওয়া দফতর এখনও ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস নিশ্চিত করেনি। মাসের শেষ দিকে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে সিস্টেমটি এগিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর চূড়ান্ত গতিপথ নির্ভর করবে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় এবং উপরিস্তরের বায়ুপ্রবাহের উপর। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর ওড়িশার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আর এর ফলে ২৬ অক্টোবর একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বালেশ্বর, ভদ্রক, যাজপুর, কেন্দ্রাপাড়া, কটক, জগৎসিংহপুর, পুরী, খুরদা, নয়াগড়, গঞ্জাম ও গজপতি। হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এই এলাকাগুলিতে।