বিপ্লব দাশ : অবশেষে সমস্ত দোনামনা তুলে রেখে বঙ্গ বিজেপির কুর্শিবদল করল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলের সংবিধান মেনে নির্বাচনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা যে উচ্চাসনের নিয়ন্ত্রণে তা আর বলার অপেক্ষায় থাকে না। তবে শেষমেষ রিক্সটা নিতেই হল বিজেপিকে। ২৬শের ভোটের আগে হাতে হয়তো মাস ছয়েক সময়। এরমধ্যে বঙ্গ বিজেপিকে একত্রিত করতে এবং চাঙা করতে শীমক ভট্টাচার্যের বিকল্প কাউকে পাওয়া গেল না তা তড়িঘড়ি এই সভাপতি নির্বাচনের উদ্যোগ দেখেই স্পষ্ট হয়। এর আগেও সভাপতি পদের দাবিদার হিসেবে শমীকের নাম উঠেছিল, কিন্তু চারিত্রিক বিচ্যুতির কারণে তা সর্বসম্মত ছিল না বলে কেন্দ্রীয় বিজেপি মুখে মকুলুপ এঁটেছিল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী আর দিলীপ ঘোষ বাদে আর কোনো নেতা এই মুহূর্তে বঙ্গ বিজেপিতে নেই যাকে সভাপতির আসনে বসানো যায়। অগ্নিমিত্রা পাল এই দৌড়ে থাকলেও তিনি নবীন এবং মহিলা, সর্বজন গ্রাহ্যতার দিক থেকে নিশ্চয়ই অদ্বিতীয়া নন এমনটাই ভেবে থাকবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। একটাই প্লাস পয়েন্ট, মমতার বিরুদ্ধে একজন নারী মুখকে তুলে ধরা।
অতএব পশ্চিমবঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের স্থলাভিষিক্ত কাউকে করতে হলে শমীক ভট্টাচার্য ছাড়া যে আর কেউ নেই এটা বুঝেছে কেন্দ্র। কারণ, শুভেন্দু এখন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। বিজেপির এক ব্যক্তি এক পদ নীতি মেনে তাঁকে রাজ্যের সভাপতি করা যায় না। বাকি রইলেন দিলীপ ঘোষ, তিনি আবার দলের সর্বভারতী সহ সভাপতি এবং বিভিন্ন কারণে কেন্দ্রের সুনজরে নেই। এদিকে ২৬শের ভোটের আগে দলের একজন নির্বাচিত সভাপতি চাই, নাহলে বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে। নিশ্চয়ই কথা উঠবে, যে দল তার সভাপতি নির্বাচন করতে পারে না তারা আবার রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী দেওয়ার স্বপ্ন দেখে কী করে ! তাই রাজ্যে দলের সভাপতি নির্বাচন আর ঝুলিয়ে রাখা উচিত হবে না ভেবেই শমীকের নামেই সিলমোহর দিতে হল। কিন্তু এমন এক সময় শমীক বঙ্গ বিজেপির কুর্শিতে বসলেন যখন তাঁর সামনে অগ্নিপরীক্ষা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তা হল আগামীর নির্বাচন। ২১শের হতাশা তাঁকে আরও চাপে রাখবে এটা নিশ্চিত। কিন্তু তারপরও এই মিতভাষী, সুবক্তা, চল্লিশ বছরের অনুগত দলের কর্মী কি ভাবে বঙ্গ বিজেপিকে পরিচালিত করেন সেটাই দেখার।
