ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস, দেশভাগ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালির অবদানকে সামনে এনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালির আত্মত্যাগ, দেশভাগের বেদনাদায়ক অধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে ধরে রাখার লড়াইয়ের কথা স্মরণ করেন। একইসঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার ইতিহাস শুধুমাত্র রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের ইতিহাস নয়, এটি আত্মত্যাগ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জাতীয়তাবোধেরও ইতিহাস।
এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বাঙালিদের অবদান চিরস্মরণীয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু, মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রফুল্ল চাকী, বাঘা যতীন, বিনয়-বাদল-দীনেশের মতো অসংখ্য বিপ্লবী দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের সংগ্রাম শুধু বাংলার জন্য নয়, সমগ্র ভারতের স্বাধীনতার পথকে সুগম করেছিল। স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা সেই বাঙালিরাই পরবর্তীকালে দেশভাগের যন্ত্রণা প্রত্যক্ষ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। মোদি বলেন, ১৯৪৬ সালের গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং এবং নোয়াখালি দাঙ্গার মতো ভয়াবহ ঘটনাগুলি বাংলার সমাজজীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষ একদিকে স্বাধীনতার আনন্দ পেলেও অন্যদিকে দেশভাগের নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল। বহু পরিবার উদ্বাস্তু হয়েছিল, ভিটেমাটি ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করতে বাধ্য হয়েছিল। স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করা বাঙালিদের একাংশকে দেশভাগের মূল্যও দিতে হয়েছিল। কিন্তু এইসবের মধ্যেও বাংলা এবং বাঙ্গালীর অস্মিতাকে ক্ষুণ্ণ হতে দেননি বাঙ্গালীরা, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এই প্রসঙ্গেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশভাগের সময় বাংলার একটি বড় অংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবিতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক উদ্যোগের ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থেকে যেতে পেরেছিল বলে দাবি করেন মোদি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বাংলার ইতিহাস ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে উপেক্ষা করে এসেছে পুর্ববর্তী বাম সরকার এবং তৃণমূল সরকার। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পেছনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের যে অবদান ছিল, তা সাধারণ মানুষের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। রাজনৈতিক কারণে তাঁর অবদানকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাঙালির পরিচয় কেবল ভাষা বা সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাধীনতা আন্দোলন, দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবোধের সঙ্গে বাঙালির পরিচয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আজকের প্রজন্মের অনেকেই জানেন না যে দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নিয়ে কত বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল এবং সেই পরিস্থিতিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
অনুষ্ঠান থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একাধিক উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করা হয়। তাঁর স্মৃতিকে সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন ও কর্মকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। শ্যামাপ্রাসাদ মুখার্জির স্মৃতির উদ্দেশ্যে পৈতৃক বাড়িকে স্মৃতিসৌধ হিসেবে গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেন।