নিজস্ব সংবাদদাতা: বিধানসভা নির্বাচনের প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে সরকারি খাতে টাকা ব্যায়ে লাগাম লাগাল রাজ্য সরকার। সোমবার অর্থসচিব প্রভাত কুমার মিশ্র স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোন দফতর সর্বাধিক কত টাকার প্রকল্পে ছাড়পত্র দিতে পারবে। ২০২৩ সালের নির্দেশিকা সংশোধন করে নতুন নিয়মে পূর্ত, সেচ, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের খরচের ঊর্ধ্বসীমা ৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩ কোটি টাকায় নামানো হয়েছে। নতুন প্রকল্প হোক বা চলমান প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায় সর্বত্রই এই সীমা প্রযোজ্য।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, সুন্দরবন উন্নয়ন ও পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের ক্ষেত্রে এই সীমা ৩ কোটি থেকে এক লাফে ১ কোটি টাকায় নামানো হয়েছে। আবাসন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, তথ্যসংস্কৃতি দফতরের অনুমোদনের সীমা করা হয়েছে ৭৫ লক্ষ টাকা। বাকি দফতরগুলির ক্ষেত্রে সর্বাধিক খরচ অনুমোদন ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। সবক্ষেত্রেই দফতরের উপদেষ্টার সিলমোহর আবশ্যিক করা হয়েছে। সরকারের এক পদস্থ কর্তা জানান, “কিছু দফতর হিসাব না রেখে খরচ করছে, অথচ সেই খরচের রিভিউ সঠিকভাবে হচ্ছে না। তাই এমন পদক্ষেপ।”
উল্লেখ্য, কেন্দ্রের সঙ্গে একাধিক প্রকল্পের অর্থছাঁট নিয়ে টানাপোড়েন চলছে নবান্নের। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, সড়ক নির্মাণের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা বন্ধ থাকায় রাজ্য সরকার নিজস্ব কোষাগার থেকেই ব্যয়ভার বহন করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথীর মতো একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের খরচ। ফলে রাজ্যের কোষাগারে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আর্থিক চাপে লাগাম টানতেই নতুন নিয়ম এমনটাই প্রশাসন সূত্রের খবর। এরই মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠক হতে চলেছে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচীতে, বৃহস্পতিবার। সেখানে কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের বকেয়া পাওনা প্রসঙ্গ তুলতে পারেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। কোষাগারের হিসাব-নিকাশ সামলে ভোটের আগে কীভাবে বড় প্রকল্পগুলিতে অর্থ জোগান বজায় থাকবে, তা নিয়েই এখন মাথাব্যথা নবান্নের।
