ওঙ্কার ডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্তের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তনের দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক আইনজীবী। মামলায় দাবি করা হয়েছে, যে ঘটনার সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেই ঘটনার তদন্ত রাজ্য পুলিশের পরিবর্তে অন্য কোনও স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হোক, যাতে তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন না ওঠে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বারুইপুরে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, সেই সময় অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে উদ্যত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় অভিযুক্তকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশের বর্ণনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। গভীর রাতে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোটা ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে নানা মহলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। সেই আবহেই কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় দাবি করা হয়েছে, পুলিশের বিরুদ্ধে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন সেই একই সংস্থার পক্ষে নিরপেক্ষ তদন্ত করা সম্ভব নয়। তাই তদন্তের দায়িত্ব অন্য কোনও স্বাধীন সংস্থা, যেমন সিবিআই বা আদালতের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে তদন্তের স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তদন্ত এমন একটি সংস্থার মাধ্যমে হওয়া উচিত, যার নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও সংশয় থাকবে না। আদালতে এই যুক্তিই তুলে ধরা হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্ট মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং রাজ্য সরকারের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। আদালত জানতে চেয়েছে, কী পরিস্থিতিতে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কীভাবে তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছায় এবং কোন পরিস্থিতিতে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়।