শান্তুনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুর : মেদিনীপুরের বিপ্লবীদের সন্ত্রাসবাদী আখ্যা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই নিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে জেলা জুড়ে। অভিযোগ বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ১১ নং প্রশ্ন, যেখানে লেখা রয়েছে “মেদিনীপুরের তিনজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নাম কর, যারা সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা নিহত হন ?” বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রশ্নপত্র নিয়ে একদিকে যেমন নিন্দা জানিয়েছেন মেদিনীপুরের বিপ্লবীদের পরিবারের সদস্যরা। তেমনই প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষানুরাগীদের সংগঠন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ।
তবে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন বিতর্কে ক্ষমা চেয়েছেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপক কর বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ইতিহাস পরীক্ষায় প্রশ্ন ভুলের ঘটনায় ইউজি বোর্ড অফ স্টাডিজের চেয়ারম্যান এবং মডারেশন বোর্ডের যে মেম্বারের সই ছিল তাদের দুজনকে ওই পথ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপক কর বলেছেন “এই অনিচ্ছাকৃত ভুল বা অসাবধানতা জনিত ত্রুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। আমি ব্যক্তিগতভাবে লজ্জিত ও আহত।”
সূত্র মারফত জানা গেছে, ইতিহাস সহ সমস্ত বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা বৈঠক করেন উপাচার্য পরীক্ষা নিয়ামক এবং ইউজিসি বোর্ড অফ চেয়ারম্যানের থেকে রিপোর্ট যাওয়া হয়েছে বলে খবর। তাদের রিপোর্ট হাতে আসার পরই দুজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সেইসঙ্গে আগামীদিনে কলোনিয়াল বা ঔপনিবেশিক শব্দ যাতে ব্যবহার না হয় বা পড়ুয়ারা সেই সমস্ত শব্দ না পড়েন, সেভাবেই সিলেবাস তৈরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এদিনের বৈঠকে। প্রয়োজনে এই সমস্ত শব্দ যে সমস্ত বই বা রেফারেন্স বইতে ব্যবহৃত হয়েছে সেই সমস্ত বইগুলিও পরিহার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। উপাচার্য এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “ইতিহাসের এই প্রশ্নপত্র তৈরীর সংক্রান্ত বিষয়ে ত্রুটি লক্ষ্য করেছি। ইউজি থার্ড ইয়ার ইতিহাস অনার্স এর ইংরেজি শব্দে বঙ্গানুবাদে মিসটেক হয়েছে। তাতে শব্দ ড্রপ হয়েছে। ওই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে পরীক্ষা নিয়ামক পরিবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।” সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার জয়ন্ত কিশোর নন্দী, কন্ট্রোলার বিপ্লব চক্রবর্ত্তী, ফ্যাকালোটি অফ আর্টস এন্ড কমার্স এর ডিন অরিন্দম গুপ্ত । উপাচার্য বলেন, “ছাত্রছাত্রী সমাজের কাছে, বিশেষত মেদিনীপুরের মতো জেলা যেখানে দেশে স্বাধীনতা ইতিহাস জড়িত বিপ্লবীদের সাথে জড়িত যারা শহীদ হয়েছেন বিপ্লবীদের প্রসঙ্গ ছিল ত্রুটি বা ভুলকে সাধারণ ত্রুটি হিসেবে মনে করছি না। এই ভুলকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি।”
