নিজস্ব প্রতিনিধি, পশ্চিম মেদিনীপুর : উৎসবের মরশুমে যেন আনন্দের হাওয়া বইলো পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন ২ ব্লকের বাঁশিচক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সাধারণত মিড-ডে-মিল মানেই নির্দিষ্ট কিছু পদ, যা প্রতিদিনই সরকারি তালিকা মেনে রান্না হয়। কিন্তু শুক্রবারের দুপুরটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। দুর্গাপুজোর ছুটির আগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্যোগে আয়োজিত হল এক বিশেষ ভোজ, যা খুদে পড়ুয়াদের কাছে ছিল আনন্দের এক স্মরণীয় মুহূর্ত।
মেনুতে ছিল রাজকীয় আয়োজন— গরম ভাত, ইলিশ মাছ ভাজা, পমফ্রেট মাছের ঝোল, চিংড়ি-কচুর তরকারি, সঙ্গে ছিল চিলি চিকেন, দই, মিষ্টি আর খাসা পাপড়। সাধারণ দিনে মিড-ডে-মিলে এমন এলাহি ভোজের স্বাদ পাওয়া যায় না। তাই খুদে পড়ুয়াদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। আনন্দে কেউ গাইছিল গান, কেউ আবার খেলার ফাঁকে খাওয়ার মজা নিচ্ছিল। শিশুদের হাসি আর উল্লাসে ভরে উঠেছিল বিদ্যালয়ের চত্বর।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, শুধু পড়াশোনাই নয়, ছাত্রছাত্রীদের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের অন্যতম দায়িত্ব। বিদ্যালয়ের শিক্ষক কল্লোল দাস বলেন, “প্রত্যেক বছর দুর্গাপুজোর আগে আমরা ছাত্রছাত্রীদের জন্য এমন বিশেষ খাওয়ার আয়োজন করি। ওরা সারা বছর মন দিয়ে পড়াশোনা করে, তাই তাদের আনন্দ দেওয়াটাই আমাদের কর্তব্য।”
শিক্ষকদের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরাও। তাঁদের বক্তব্য, এই ধরনের আয়োজন শুধু খুদেদের মন ভরিয়ে দেয় না, বিদ্যালয় সম্পর্কেও তাদের মনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে। এক খুদে পড়ুয়া হাসিমুখে জানায়, “আজ খুব মজা লাগছে। মিড-ডে-মিলে আগে কোনোদিন ইলিশ মাছ খাইনি। শিক্ষকদের ধন্যবাদ।”
উৎসবের আবহে ভরা এদিনের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান অনিমেষ দে, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ইফতেখার আলি, বিপ্লব বেরা সহ, ওই স্কুলের শিক্ষক পিন্টু সিট, শিক্ষক কল্লোল দাস, শিক্ষক পিন্টু সাউ আরও অনেকে। সকলেই বিদ্যালয়ের এই প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পুজোর ছুটির আগে এমন একটি দিনে বাঁশিচক প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন রূপ নেয় এক আনন্দমুখর মিলনমেলায়। ভরপেট ইলিশ-পমফ্রেট ভোজ আর শিক্ষকদের ভালোবাসার ছোঁয়া খুদেদের মনে তৈরি করেছে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি। আগামী দিনগুলোতে এই স্মৃতি তাদের মনে বারবার ফিরে আসবে, যেমনভাবে পুজোর আগে এই একদিন বিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়েছিল খুশির আলো।
