ওঙ্কার ডেস্কঃ গত লোকসভায় শ্রীরামপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন দীপ্সিতা ধর। সব থেকে বেশি ভোট পেয়েছিলেন উত্তরপাড়া বিধানসভার অন্তর্গত এলাকায়। এবার সেই উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে প্রার্থী পদের আগাম ইঙ্গিত দিয়ে পার্টির যুব নেতৃত্বের রোষের মুখে পড়লেন মহম্মদ সেলিম। যুব নেতৃত্বের সূত্রে খবর, সেলিম ক’দিন আগেই নাকি মীনাক্ষীকে এই আসনে মনোযোগ দিতে বলেন। তারপর থেকেই মীনাক্ষী অন্য সব কর্মসূচি ছেড়ে কার্যত ঘাঁটি গেড়েছেন উত্তরপাড়ায়। মীনাক্ষীকে কেন সব ক্ষেত্রে ‘অ্যাডভান্টেজ’ দেওয়া হচ্ছে, প্রার্থী পদের আগাম ইঙ্গিত কেন দেওয়া হচ্ছে, বাকিদের কেন অন্ধকারে রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
উত্তরপাড়ায় ভালো লড়াই করেছিল দীপ্সিতা। সেখানে তাকেই দলের তরফে কিছু জানানো হল না। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের মধ্যেও বিভাজন করে দেওয়া হয়েছে পার্টিতে। প্রতীক উরের বলা বক্তব্য গুলোই কী তবে আসল বাস্তব, প্রশ্ন উঠছে।
মীনাক্ষী গতবার দাঁড়িয়েছিলেন নন্দীগ্রাম আসনে। এবার যদি দীপ্সিতাকে সরিয়ে মীনাক্ষীকে উত্তরপাড়ায় প্রার্থী করা হয় তবে ভোট যে আরও তলানিতে ঠেকবে তা নিশ্চিত নেতৃত্বের কাছে। বিক্ষুব্ধদের দাবি, দীপ্সিতাই সব থেকে এখানে ভালো প্রার্থী হতে পারত। তার পরিবার সূত্রে এই কেন্দ্রটি হাতের তালুর মতো চেনা। অন্যদিকে, আরেকটি প্রশ্ন উঠছে, আর্টসের ছাত্রী কীভাবে সায়েন্স ল্যাবের টেকনিশিয়ানের কাজ পেয়েছিলেন? পার্টির তো অনেক দক্ষ নেতৃত্ব রয়েছেন, তাঁদের কেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেওয়া হচ্ছে না? মীনাক্ষীকে কেন ও কীভাবে এত তাড়তাড়ি কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হল! অনেক তরুণ নেতারা রয়েছে দলে, তাদেরকে কেন সীমাবদ্ধতার মধ্যে রাখা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
পার্টির গঠনতন্ত্র মেনে কেউ প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ না করলেও দলের অন্দরে অভিমান রয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রতীক উর দল ছাড়ার পর তরুণ প্রজন্মের অন্য নেতাদের মধ্যেও তার আঁচ যে কোনওদিন পড়তে পারে বলে আশঙ্কা এখন সিপিএমের মধ্যে।
